হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যসচিব মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর থেকেই উত্তাল হয়ে উঠেছে জেলার রাজনৈতিক ও ছাত্র অঙ্গন। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে একটি কড়া আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। ছাত্রনেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়েছেন, জুলাই বিপ্লবের লড়াকু সৈনিক মাহদী হাসানকে যদি এক ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি না দেওয়া হয়, তবে সারা দেশে কঠোর ও সর্বাত্মক কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ছাত্র-জনতা সংগঠিত হতে শুরু করেছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া বার্তায় অভিযোগ করা হয়েছে যে, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াসমিন খাতুন অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এবং ভিত্তিহীন অভিযোগে মাহদীকে গ্রেপ্তার করিয়েছেন। পুলিশের দাবি, মাহদী হাসান শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) হুমকি দিয়েছেন এবং এতে আসন্ন নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ এই অভিযোগকে ‘অস্পষ্ট ও অযৌক্তিক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা উল্টো দাবি তুলেছেন যে, একজন সক্রিয় আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তারের দায়ে জেলা পুলিশ সুপার এবং শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে অতিদ্রুত তাদের পদ থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।
মাহদী হাসান গ্রেপ্তার ও সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রেক্ষাপট
| ঘটনার বিবরণ | সময় ও তারিখ | মূল বিষয়বস্তু ও ফলাফল |
| বিতর্কিত কথোপকথন | ২ জানুয়ারি (শুক্রবার) | শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির সাথে মাহদীর তীব্র বাগ্বিতণ্ডা। |
| ভিডিও প্রকাশ | ২ জানুয়ারি (শুক্রবার রাত) | হুমকির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল ও সমালোচনা। |
| পুলিশি অভিযান | ৩ জানুয়ারি (সন্ধ্যা ৭:৩০) | মাহদী হাসানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেয়। |
| আল্টিমেটাম প্রদান | ৩ জানুয়ারি (রাত ৯:০০) | ১ ঘণ্টার মধ্যে মুক্তির দাবি ও দেশব্যাপী আন্দোলনের ডাক। |
| দাবি সমূহ | চলমান | মাহদীর মুক্তি এবং এসপি ও ওসির তাৎক্ষণিক অপসারণ। |
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার দুপুরে, যখন শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ওসির কক্ষে বসে মাহদী হাসানকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মাহদী নিজেকে আন্দোলনের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তুলে ধরে বিভিন্ন সহিংস ঘটনার উল্লেখ করে ওসির উদ্দেশ্যে হুমকিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রশাসনের মাঝে অস্বস্তি তৈরি হয় এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক জনমত গড়ে ওঠে। যদিও ছাত্রপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই আংশিক ভিডিও প্রচার করে মাহদীকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে এবং এর আড়ালে পুলিশি প্রতিহিংসা কাজ করছে।
বর্তমানে হবিগঞ্জের পরিবেশ অত্যন্ত থমথমে। জেলা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে এবং সদর মডেল থানার সামনে শত শত শিক্ষার্থী মাহদীর মুক্তির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছেন। আন্দোলনকারী ছাত্ররা বলছেন, জুলাই বিপ্লবের ফসল হিসেবে এই প্রশাসন দায়িত্ব পালন করছে, অথচ তারা এখন বিপ্লবীদের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। মাহদীকে মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
