মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ভাষা দিবস উদযাপন ও শ্রদ্ধা

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও শহীদ দিবস উপলক্ষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের জনগণকে ভিডিও বার্তায় আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। বার্তাটি তিনি সম্পূর্ণ বাংলায় উপস্থাপন করেন এবং ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষায় বাংলাদেশের জনগণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রদূতের ভিডিও বার্তাটি ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের অফিসিয়াল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পেজে প্রকাশিত হয়। তিনি বার্তায় বলেন, “২১ ফেব্রুয়ারির এই পবিত্র দিনে আমরা সেই সমস্ত মানুষকে শ্রদ্ধা জানাই যারা আমাদের মাতৃভাষার সংরক্ষণের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ভাষা আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহাসিক ধনসম্পদের ভিত্তি।”

তিনি আরও বলেন, “এই দিন আমাদের স্মরণ করায় যে আমাদের মাতৃভাষায় কথা বলা ও আমাদের ইতিহাস মনে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আমরা বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে একাত্মতা পুনর্ব্যক্ত করছি। ভাষা আন্দোলন শেখায় যে একটি জাতি তার ভাষার মাধ্যমে একত্রিত হতে পারে এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করতে পারে।”

রাষ্ট্রদূতের বক্তব্যে বাংলাদেশের ভাষা ও সংস্কৃতির গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে তিনি বৈশ্বিক প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষায় অনুপ্রেরণা যোগায়। এই শ্রদ্ধাঞ্জলি দিবসের দ্বিগুণ লক্ষ্য প্রতিফলিত করে: অতীতের ত্যাগের স্মরণ এবং মাতৃভাষার চলমান প্রাসঙ্গিকতা উদযাপন।

২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:

দিকবিস্তারিত তথ্য
দিবসের নামআন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস / চিরন্তন ২১ ফেব্রুয়ারি
থিমভাষা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণ
বছর২০২৬
উদযাপনকারী দেশসমূহবাংলাদেশ ও বিশ্বের অন্যান্য দেশ
প্রধান অনুষ্ঠানশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভাষা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
রাষ্ট্রদূতের বার্তামার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের ভিডিও শুভেচ্ছা
বার্তার মূল বক্তব্যভাষা আমাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা, আন্তর্জাতিক একাত্মতা

রাষ্ট্রদূতের এই বার্তা বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে মাতৃভাষার প্রতি নতুন করে ভালোবাসা ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বের উপলব্ধি জাগিয়েছে। বিশেষভাবে শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও ভাষা ও সংস্কৃতি সংক্রান্ত গবেষণায় যুক্ত মানুষেরা বার্তাটি গ্রহণ করেছেন, যা জাতীয় পরিচয় গঠনে ভাষার ভূমিকা নিয়ে চিন্তাভাবনার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

বাংলাদেশে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রতিবছর যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হয়। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভাষা ঐতিহ্য উদযাপনের অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশগ্রহণ আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবসের সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে প্রতিষ্ঠিত করে। রাষ্ট্রদূত বাংলায় বার্তা উপস্থাপন করে তা আরও আন্তরিক ও গভীর হয়ে ওঠে, যা বাংলাদেশের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক একাত্মতা প্রদর্শন করে।

এই বার্তা মাতৃভাষার প্রতি আন্তর্জাতিক সম্মান এবং সংস্কৃতির সংরক্ষণে বিশ্ববাসীর কাছে শক্তিশালী একটি প্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।