মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে হস্তক্ষেপ করছেন নেতানিয়াহু — অভিযোগ ইরানের

ইরান অভিযোগ করেছে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণে হস্তক্ষেপ করছেন।

তেহরান থেকে সোমবার এএফপি জানায়, নেতানিয়াহু দাবি করেছেন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে এবং যেকোনো চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। এই মন্তব্যের পরই ইরান এমন অভিযোগ তোলে।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক বিবৃতিতে বলেন, “নেতানিয়াহু কীভাবে এতটা সাহস নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে পরামর্শ দিচ্ছেন, তা সত্যিই বিস্ময়ের বিষয়। তিনি নির্ধারণ করতে চাইছেন ট্রাম্প ইরান বিষয়ে কী করবেন আর কী করবেন না।”

এর আগে রবিবার নেতানিয়াহু বলেছিলেন, “ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যে কোনো চুক্তি এমন হওয়া উচিত, যাতে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধির সক্ষমতা হারায় এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রমও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসে।”

এ সময় ওমানে তৃতীয় দফা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়। দুই পক্ষই আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে তথ্য জানায়।

মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইকে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান এবং আলোচনায় রাজি না হলে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফিরে ট্রাম্প আবারও ‘সর্বোচ্চ চাপ’ কৌশল চালু করেন, যা তার প্রথম মেয়াদে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি থেকে সরে আসার সময়ও প্রয়োগ করেছিলেন।

১২ এপ্রিল শুরু হওয়া এই আলোচনায় তেহরান স্পষ্ট করে জানায়, আলোচনার বিষয়বস্তু শুধু পারমাণবিক ইস্যু এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থাকবে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) জানায়, দেশের সামরিক সক্ষমতা আলোচনার বাইরে থাকবে।

তেহরান বরাবরই ইসরাইল বিরোধী মিলিট্যান্ট সংগঠনগুলোর সমর্থক। এর মধ্যে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী, লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজা উপত্যকার হামাস এবং ইরাকের শিয়াপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে।

আরাঘচি আরও বলেন, “ইসরাইল যদি ভাবে তারা ঠিক করে দেবে ইরান কী করবে, আর কী করবে না — তাহলে সেটি বাস্তবতার সঙ্গে এতটাই দূরে যে সেটার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজনও নেই।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, যুক্তরাষ্ট্রও নিজেদের অবস্থানে কঠোর থাকবে।

পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা চালানোর অভিযোগ করে আসছে। তবে ইরান দাবি করে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধু শান্তিপূর্ণ নাগরিক উদ্দেশ্যেই পরিচালিত।