তাকসিমসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ দুদকের। ওয়াসায় নিয়োগ দুর্নীতি অনুসন্ধান পরবর্তী প্রতিবেদনে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) তাকসিম এ খানসহ মোট ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও এমডিসহ সাত সদস্য এবং চাকরি গ্রহণকারী দুজনকে আসামি করার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও উপপরিচালক সৈয়দ নজরুল ইসলাম এ প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
এ বিষয়ে দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) মোজাম্মেল হক খান গণমাধ্যমকে বলেছেন, অনুসন্ধান প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনুসন্ধান কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিলের পর সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলার অনুমোদন দিতে ১০-১৫ দিন লাগতে পারে। কালবেলাপ্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়, পরিচালক (উন্নয়ন) ও পরিচালক (কারিগর) এই দুটি পদ ওয়াসার অর্গানোগ্রামে না থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটির এমডি প্রভাব খাটিয়ে দুজনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছেন। আর চার বছরের বেশি সময় ধরে তাদের বেতন বাবদ এক কোটি ৯৮ লাখ ৬৫ হাজার ৯৮০ টাকা দেওয়া হয়েছে। নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ হওয়ায় এই পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

তাকসিমসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলার সুপারিশ দুদকের
দুদকের তথ্যমতে, ২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে নিয়োগ পান প্রকৌশলী তাকসিম এ খান। এরপর ধাপে ধাপে সময় বাড়িয়ে এখনো বহাল আছেন তিনি। বিতর্কিত তাকসিম এ খানের পুনঃনিয়োগের ক্ষেত্রেও বিধি অমান্য করার অভিযোগ রয়েছে। ওয়াসার এমডি প্রকৌশলী তাকসিম এ খানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে সংস্থাটির পদ্মা জশলদিয়া প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার প্রকল্পে ১ হাজার কোটি টাকা, দাশেরকান্দি পয়ঃশোধনাগার প্রকল্পে ১ হাজার কোটি টাকা, গুলশান বারিধারা লেক দূষণ প্রকল্পে ৫০ কোটি টাকার অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
এ ছাড়াও প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো, ঠিকাদার নিয়োগে সিন্ডিকেট, ঘুষ লেনদেন, পছন্দের লোককে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ, অপছন্দের লোককে ওএসডি করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে ওয়াসার এমডির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক দুজন কর্মকর্তার নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান শেষ করে মামলার সুপারিশ তুলে ধরে দুদকে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধান প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ওয়াসার পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা পরস্পর যোগসাজশ করে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্গানোগ্রাম বহির্ভূত ও ঢাকা ওয়াসায় বৈধ কোনো পদ সৃষ্টি না করে এবং নিয়োগ-সংক্রান্ত নীতিমালা ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুসরণ না করে নিজেদের পছন্দের দুজন ব্যক্তিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেন।