সেমিফাইনালে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল নেপালকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনালের টিকিট কেটে নিয়েছে। ম্যাচের একমাত্র গোলটি এসেছে ১১ মিনিটে মোহাম্মদ মানিকের হেড থেকে, যা বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেছে।
মার্ক কক্সের অধিনায়কত্বে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে ফাইনালে তৃতীয়বার উপস্থিত হলো। ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতকে হারতে ব্যর্থ হলেও, ২০২৪ সালে নেপালকে তাদের মাঠে হারিয়ে শিরোপা জেতার অভিজ্ঞতা দলকে আত্মবিশ্বাসী করেছে।
আজকের ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ আক্রমণে দাপুটে ছিল। মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে প্রথম মিনিট থেকে আক্রমণ চালানো বাংলাদেশ যুবাদের ক্রসগুলো সামলাতে নেপাল প্রতিরোধ করতে হিমশিম খাচ্ছিল। ১১ মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে মোরশেদ আলীর ক্রস বক্সে পৌঁছালে মানিকের হেডে বল জালে গিয়ে যায়।
রোনান সুলিভানও এক মিনিট পর প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করার চেষ্টা করেন, তবে অফসাইডে থাকায় সেই গোল বাতিল হয়। বাংলাদেশের জমাট রক্ষণভিত্তিক খেলা নেপালের আক্রমণ থামাতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ কিছুটা সতর্ক হয়ে খেললেও আক্রমণে ঢিলেমি দেয়নি। ৫২ মিনিটে মানিক চোটের কারণে স্ট্রেচারে মাঠ ত্যাগ করলে জয় আহমেদ তাঁর স্থানে নামেন। ৮৭ মিনিটে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রোনান সুলিভানের ভাই ডেক্লান সুলিভান অভিষেক হয় দলের হয়ে।
নেপাল শেষ ১৫ মিনিটে চাপে রাখলেও বাংলাদেশের ডিফেন্স তাদের রক্ষা করে। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয় এবং ফাইনালে পৌঁছে তারা ভারতের সাথে ৩ এপ্রিল মুখোমুখি হবে, যেখানে জয়ী দল শিরোপা লড়াই খেলবে।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| সময় (মিনিট) | ঘটনা | গোলদাতা / মন্তব্য |
|---|---|---|
| 11 | হেড গোল | মোহাম্মদ মানিক |
| 12 | বাতিল গোল | রোনান সুলিভান (অফসাইড) |
| 36 | শট আটকানো | রোনান শট, গোলকিপার পেম্বা |
| 52 | বদলি | মানিক → জয় আহমেদ |
| 56 | শট অনিশ্চিত | নাজমুল হুদা |
| 87 | অভিষেক | ডেক্লান সুলিভান |
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের খেলোয়াড়রা আক্রমণ এবং প্রতিরক্ষায় দারুণ সমন্বয় দেখিয়েছে। ম্যাচ জয়ের সঙ্গে ফাইনালে ওঠা বাংলাদেশের জন্য এটি আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর ঘটনা। ৩ এপ্রিল ভারতের সঙ্গে শিরোপা লড়াইয়ে তাদের লক্ষ্য হবে তৃতীয়বারের মতো সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন হওয়া।
শেষ পর্যন্ত, মানিকের সময়োপযোগী হেড গোল, ডিফেন্সের দৃঢ়তা এবং কৌশলগত খেলাই বাংলাদেশকে ফাইনালে পৌঁছে দিয়েছে। ম্যাচ চলাকালীন দলীয় সমন্বয়, আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা ও মানসিক দৃঢ়তা বাংলাদেশের জয়কে নিশ্চিত করেছে।
