মানিকগঞ্জ-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নাম লেখানো বিএনপির জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতাউর রহমানকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, রবিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। যাচাই শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা আতাউর রহমানের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাই: প্রধান তথ্য
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| স্থান | জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মানিকগঞ্জ |
| সময় | রবিবার, দুপুর |
| স্বতন্ত্র প্রার্থী | আতাউর রহমান (জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সদস্য) |
| বিএনপি মনোনীত প্রার্থী | আফরোজা খানম |
| মনোনয়ন ফলাফল | আতাউর রহমান – অবৈধ, আফরোজা খানম – বৈধ |
| মূল আপত্তি | আতাউর রহমানের মামলা ও গ্যাস বিল সংক্রান্ত অভিযোগ |
| উপস্থিত কর্মকর্তারা | জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, অন্যান্য প্রার্থী ও সমর্থক |
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর আতাউর রহমান আপত্তি জানান, তিনি আফরোজা খানমের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্যাস বিল সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরেন। এই আপত্তি শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপস্থিত অধিকাংশ প্রার্থী এবং সমর্থকরা সম্মেলনকক্ষ ত্যাগ করেন।
অভিযোগে বলা হয়, সম্মেলনকক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় আতাউর রহমানকে ধাক্কা দিয়ে বের হতে শাসান মানিকগঞ্জ পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নাসির উদ্দিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফ হোসেন এবং শিবালয় উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব সোহেল রানা।
আতাউর রহমান জানান, “সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সংঘর্ষ ও ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাসির উদ্দিন। তিনি বলেন, “স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান মনোনয়ন বাতিল হওয়ার পর আফরোজা খানমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপর আতাউর সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করতে চেষ্টা করেন এবং মানহানিকর মন্তব্য করেন। এজন্য তাকে সম্মেলনকক্ষ থেকে চলে যেতে বলা হয়।”
যুবদল নেতা সোহেল রানা বলেছেন, “হেনস্তা করা হয়নি; স্বতন্ত্র প্রার্থী মনোনয়ন বাতিলের পর প্রার্থী সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করার কারণে তাকে চলে যেতে বলা হয়েছিল।”
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগটি ইতিমধ্যে ইলেকটোরিয়াল মনিটরি কমিটিতে পাঠানো হয়েছে এবং কমিটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
