ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিভিন্ন শহরে মঙ্গলবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দুই কোটি মানুষ অংশগ্রহণ করেছে এমন বিশাল বিক্ষোভে। এই বিক্ষোভ মঞ্চস্থ হয়েছে ঠিক এক মাস পর, যখন রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস‑কে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে আটক করা হয় এবং তাদের পশ্চিমা আদালতে পাঠানো হয়। বিক্ষোভকারীরা তা আন্তর্জাতিক আইনের উভয় লঙ্ঘন ও উপনিবেশবাদ‑ভিত্তিক হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
দুর্নীতির, মাদকপদার্থ পাচারের এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের অভিযোগে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা চলছে নিউইয়র্ক শহরে। ভেনেজুয়েলার সাধারণ জনগণ এই ধরণের বিদেশি হস্তক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখছে এবং বারবার দাবি করছে “মাদুরো জনগণের নির্বাচিত নেতা” হিসেবে তার অধিকার রক্ষা ও দ্রুত মুক্তি দিন।
প্রধান বিক্ষোভটি ছিল সরকার কর্তৃক পরিচালিত “গ্রান মার্চা” নামে একটি সমাবেশ, যেখানে সরকারি কর্মচারী, ছাত্রছাত্রী, শ্রমিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণ অংশ নেয়। ব্যানার, পতাকা, ও ছবি উঁচিয়ে তারা দাবী করে যে মাদুরো এবং ফ্লোরেসকে অবিলম্বে দেশে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।
অনেক বিক্ষোভকারী দাবি করেন যে ইন্টারভেনশন ওই দেশের সার্বভৌমত্বের ক্ষতি করেছে এবং এর ফলস্বরূপ ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিপন্ন হয়েছে। “ভেনেজুয়েলা মাদুরো না পেলেই চলবে না” — এই ধরণের স্লোগানগুলো ছিল কার্যক্রমের মূল আকর্ষণ।
আরেকদিকে, বিভিন্ন গণমাধ্যম প্রতিবেদনে দেখা গেছে যে গত এক মাসে ভিন্ন রাজনৈতিক ধারা থেকেও বিক্ষোভ হয়েছে। অনেক মানুষ সাধারণ রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি ও নতুন একটি মাফিয় আইন দ্রুত পাশ করার দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। এই আইনটির অধীনে বহু বন্দীকে মুক্ত করা হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক সক্রিয়রা।
আন্তর্জাতিকভাবে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়াও ব্যাপক। জাতিসংঘ সাধারণ সচিব আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার দিকে গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সাবধানে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন, একই সঙ্গে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে।
নিচে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতির মূল তথ্য একটি টেবিলে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| রাষ্ট্রপতি | নিকোলাস মাদুরো (যুক্তরাষ্ট্রে আটক) |
| রাষ্ট্রপতির স্ত্রী | সিলিয়া ফ্লোরেস (সহ আটক) |
| কারাগার অবস্থান | নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র |
| অন্তর্বর্তী সরকার | ডেলসি রদ্রিগেজ |
| প্রধান দাবী | মাদুরো ও ফ্লোরেসের অবিলম্বে মুক্তি |
| স্থানীয় আবেগ | সরকারের প্রতি সমর্থন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা |
| আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া | জাতিসংঘের উদ্বেগ, রাশিয়া ও চীনের নিন্দা |
এই বিক্ষোভগুলো ভেনেজুয়েলার গভীর রাজনৈতিক বিভাজন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিল পরিস্থিতির প্রতিফলন। দেশটির মানুষের মধ্যে উত্তেজনা বিদ্যমান এবং তিনি স্পষ্টতই একটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নীতিগত আলোচনার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। ভিন্ন মত ও দাবির সংঘর্ষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে আরো অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যার ফলে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
