মাইক বিভ্রাটে আবারও সংসদ কার্যক্রম স্থগিত

জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশনে পুনরায় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার ঘটনা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে সাউন্ড সিস্টেমে গুরুতর সমস্যা দেখা দেওয়ায় প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করতে বাধ্য হন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমাদ। সন্ধ্যা ৫টা ৫৬ মিনিটে তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের অষ্টম দিনের কার্যসূচি শুরু থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ে। বিকেল সাড়ে ৩টায় অধিবেশন শুরু হলেও শুরু থেকেই মাইকের শব্দে অস্পষ্টতা, বিচ্ছিন্নতা এবং বারবার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনা লক্ষ্য করা যায়। ফলে স্পিকার ও সংসদ সদস্যদের বক্তব্য পরিষ্কারভাবে শোনা সম্ভব হচ্ছিল না। এতে আলোচনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয় এবং কার্যত কার্যক্রম অচলাবস্থার দিকে গড়ায়।

পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠলে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংসদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি দাঁড়িয়ে স্পিকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে জানান, মাইকের সমস্যার কারণে সদস্যদের বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না। এমনকি স্পিকারের ব্যবহৃত মাইকেও একই ধরনের ত্রুটি দেখা দিচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তোলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে স্পিকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

মুলতবি ঘোষণার সময় স্পিকার জানান, বিরতির ৪০ মিনিটের মধ্যে ২০ মিনিট মাগরিবের আজানের জন্য এবং অবশিষ্ট ২০ মিনিট সাউন্ড সিস্টেম মেরামতের কাজে ব্যয় করা হবে। তবে সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এমন প্রযুক্তিগত সমস্যার পুনরাবৃত্তি সংশ্লিষ্টদের প্রস্তুতি, দক্ষতা এবং তদারকির ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত ১২ মার্চ শুরু হওয়া এই অধিবেশনের প্রথম দিনেও একই ধরনের মাইক বিভ্রাটের ঘটনা ঘটেছিল। সেদিনও কিছু সময়ের জন্য অধিবেশন স্থগিত রাখতে হয়েছিল। ধারাবাহিকভাবে এমন সমস্যা দেখা দেওয়ায় সংসদের কার্যকারিতা ও মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন সংসদ সদস্য।

নিম্নে সাম্প্রতিক দুইটি ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—

তারিখঅধিবেশনের দিনসমস্যাগৃহীত ব্যবস্থা
১২ মার্চপ্রথম দিনমাইক বিভ্রাটসাময়িক মুলতবি
৫ এপ্রিলঅষ্টম দিনসাউন্ড সিস্টেম ত্রুটি৪০ মিনিটের মুলতবি

বিশেষজ্ঞদের মতে, জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির নিরবচ্ছিন্ন কার্যকারিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। উন্নতমানের সাউন্ড সিস্টেম, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষ কারিগরি সহায়তা ছাড়া এ ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব নয়। তারা মনে করেন, প্রতিটি অধিবেশনের আগে পূর্ণাঙ্গ প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জরুরি বিকল্প ব্যবস্থা (backup system) প্রস্তুত রাখা উচিত।

এ পরিস্থিতিতে সংসদের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত, সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।