মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত পরিস্থিতির মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী আবদুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ অবশেষে দেশে ফিরেছে। সোমবার সকালে সৌদি আরব থেকে একটি বিশেষ ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মরদেহ দেশে ফেরায় পরিবারসহ প্রবাসী সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সকাল আনুমানিক পৌনে ১০টার দিকে মরদেহবাহী বিমানটি ঢাকায় অবতরণ করে। বিমানবন্দরের বিশেষ ব্যবস্থাপনায় মরদেহ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, পাশাপাশি ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রতিনিধিরাও। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে আবদুল্লাহ আল মামুনের মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি ঘটার পরপরই তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য জটিল প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। আন্তর্জাতিক আইন, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি, দূতাবাসের ছাড়পত্র এবং নিরাপত্তা যাচাইসহ একাধিক ধাপ অতিক্রম করতে হয়, যা পুরো প্রক্রিয়াকে সময়সাপেক্ষ করে তোলে।
মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহত প্রবাসীর পরিবারকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা কর্মসূচিও চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া নিশ্চিত করতে কনস্যুলার সেবা আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।
আর্থিক সহায়তার বিবরণ
| সহায়তার ধরন | পরিমাণ/বিবরণ |
|---|---|
| তাৎক্ষণিক নগদ সহায়তা | ৫০,০০০ টাকা |
| ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড সহায়তা | ৩৫,০০০ টাকা |
| অতিরিক্ত সরকারি অনুদান | ৩,০০,০০০ টাকা |
| দাফন ও আনুষঙ্গিক সহায়তা | স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় প্রক্রিয়াধীন |
মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে এখন পর্যন্ত মোট ৭ জন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪ জনের মরদেহ ইতোমধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। একজনকে পরিবারের সম্মতিতে স্থানীয়ভাবে দাফন করা হয়েছে এবং বাকি মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিমানবন্দরে উপস্থিত কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মোখতার আহমেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আসাদ আলম সিয়াম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার বিভাগের মহাপরিচালক দেওয়ান আলী আশরাফ এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক এ টি এম মাহবুব-উল করিম।
সরকারি কর্মকর্তারা জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দূতাবাসগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের ঝুঁকি মূল্যায়ন, তথ্য হালনাগাদ এবং সংকটকালীন উদ্ধার পরিকল্পনা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আবদুল্লাহ আল মামুনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ছাড়াও স্থানীয় সমাজে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, ভবিষ্যতে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং সংকটকালীন সহায়তা নিশ্চিত করতে আরও সমন্বিত মানবিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে, যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি কমিয়ে আনা যায়।
