ময়মনসিংহে হামে মৃত্যু বাড়ছে

ময়মনসিংহে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, একই সঙ্গে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩৪ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এই তথ্য জানিয়েছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রবিবার (১৯ এপ্রিল) প্রকাশিত দৈনিক হামের পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে আসে, যা অঞ্চলে শিশু স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

সর্বশেষ মৃত্যুবরণ করা শিশুটির বয়স ছিল মাত্র তিন মাস। শিশুটির বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায়। জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল হামের উপসর্গ দেখা দিলে তাকে দ্রুত ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটে। চিকিৎসকদের ধারণা, অত্যন্ত কম বয়স এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে শিশুটি জটিলতায় পড়েছিল।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু রোগীর ভর্তি পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। প্রতিদিনই নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৪ জন নতুন শিশু ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ওয়ার্ডগুলোতে শয্যা সংকট ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বাড়তি সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬১১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৫১৯ জন শিশু। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৮ জন শিশু। এছাড়া এখন পর্যন্ত মোট ১৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগে শিশুদের মধ্যে দ্রুত জটিলতা তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে যেসব শিশু খুব অল্প বয়সী বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা এবং অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা মৃত্যুঝুঁকি বাড়ায়।

বর্তমান পরিস্থিতির একটি সারসংক্ষেপ নিচে উপস্থাপন করা হলো—

সূচকসংখ্যা
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি৩৪ জন
মোট ভর্তি (১৭ মার্চ থেকে)৬১১ জন
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে৫১৯ জন
বর্তমানে চিকিৎসাধীন৭৮ জন
মোট মৃত্যু১৪ জন
সর্বশেষ মৃত শিশুর বয়স৩ মাস
হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তারিখ (সর্বশেষ মৃত শিশু)৯ এপ্রিল

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, হামের বিস্তার রোধে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুহার অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, শিশুদের মধ্যে জ্বর, চর্মরোগ বা হামের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রয়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে ভবিষ্যতে ব্যবস্থাপনায় আরও চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।