মতলবে ২০ দিনে সাতজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু, আতঙ্কের ছায়া

চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলায় গত ২০ দিনের মধ্যে নারী ও শিশুসহ অন্তত সাতজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এসব মৃত্যুর মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ড, আত্মহত্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া এবং রহস্যজনক মৃত্যু, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অল্প সময়ে এতগুলো প্রাণহানি স্বাভাবিক নয় এবং এটি পারিবারিক ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ১৭ ফেব্রুয়ারি মতলব দক্ষিণের নলুয়া গ্রামে পানির পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার সময় মা রিনা বেগম ও তার ছেলে এনামূল হক রাসেল খান বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান। ২৮ ফেব্রুয়ারি মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি ইউনিয়নের হাঁপানিয়া গ্রামে পরকীয়ার জেরে বৃদ্ধা পারুল বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ৪ মার্চ মতলব উত্তরের বালুচর ১ নম্বর ওয়ার্ডে আইএফআইসি ব্যাংকের সিকিউরিটি গার্ড পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেন।

এরপর ৭ মার্চ মতলব উত্তরের ষাটনল ইউনিয়নের রঙ্গুখারকান্দির গ্রামের শাকিলা পরকীয়ার জেরে আত্মহত্যা করেন। ৮ মার্চ হরিনা গ্রামে মেয়ের ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করার কারণে পিতা জাকির হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এছাড়া মতলব দক্ষিণের বাইসপুর গ্রামে অলক কুমার মহন্ত নামের এক বিক্রয় কর্মীর রহস্যজনক লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক বেনজির আহমেদ মুন্সী বলেন, “এই ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা পারিবারিক ও সামাজিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়। বিশেষ করে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও মানসিক চাপ মোকাবেলায় পারিবারিক কাউন্সিলিং অপরিহার্য। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।”

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান জানিয়েছেন, “মতলবে স্বল্প সময়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ প্রতিটি ঘটনার তদন্ত করছে। কোনো অপরাধ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি।”

অল্প সময়ে এতগুলো অস্বাভাবিক মৃত্যু স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক চাপ এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নিচে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিলে তুলে ধরা হলো—

তারিখস্থাননিহত/আত্মহত্যাকারীমৃত্যুর ধরনকারণ/পরিস্থিতি
১৭ ফেব্রুয়ারিনলুয়া, মতলব দক্ষিণরিনা বেগম ও এনামূল হক রাসেল খানবিদ্যুৎস্পৃষ্টপানির পাম্পে বিদ্যুৎ সংযোগ
২৮ ফেব্রুয়ারিহাঁপানিয়া, বাগানবাড়ি ইউনিয়ন, মতলব উত্তরপারুল বেগমহত্যাপরকীয়া সম্পর্ক
৪ মার্চবালুচর ১ নম্বর ওয়ার্ড, মতলব উত্তরব্যাংক সিকিউরিটি গার্ডআত্মহত্যাপারিবারিক কলহ
৭ মার্চষাটনল ইউনিয়ন, রঙ্গুখারকান্দি, মতলব উত্তরশাকিলাআত্মহত্যাপরকীয়া সম্পর্ক
৮ মার্চহরিনা গ্রাম, মতলব উত্তরজাকির হোসেনহত্যামেয়ের ইভটিজিং প্রতিবাদ
অজ্ঞাতবাইসপুর, মতলব দক্ষিণঅলক কুমার মহন্তরহস্যজনক মৃত্যুঅপরিস্কার

স্থানীয়রা মনে করেন, সামাজিক নিরাপত্তা ও পারিবারিক সুস্থতা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও সমাজসেবী সংগঠনকে দ্রুত এবং সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সহায়তা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ভবিষ্যতে অস্বাভাবিক মৃত্যু ও সামাজিক অস্থিরতা প্রতিরোধ সম্ভব।