নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নির্দিষ্ট তফসিল ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, ভোটের দিন সাধারণ ছুটি থাকবে, তবে ব্যাংক এবং পোস্ট অফিস ইসির নির্দেশ অনুযায়ী খোলা থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ বৈঠকে তফসিল, গণভোট এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সোমবার বিটিভিকে চিঠি পাঠানো হবে যাতে তফসিল রেকর্ড করা যায়। তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর সন্ধ্যায় মাঠ পর্যায়ে নির্বাচনী মিটিং অনুষ্ঠিত হবে।
নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা
নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলায় দুইজন করে ম্যাজিস্ট্রেট স্থাপন করা হবে। ভোটের পাঁচ দিন আগে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। নির্বাচন কমিশনার বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোটের সময় প্রশাসনিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
নির্বাচন উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও সীমাবদ্ধতাসমূহ:
| বিষয় | প্রস্তাবিত ব্যবস্থা |
|---|---|
| সাধারণ ছুটি | ভোটের দিন সরকারি ও বেসরকারি অফিসে ছুটি থাকবে |
| ব্যাংক ও পোস্ট অফিস | ইসির নির্দেশ অনুযায়ী খোলা থাকবে |
| ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ | প্রতিটি উপজেলায় ২ জন; ভোটের ৫ দিন আগে সংখ্যা বৃদ্ধি |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয় |
| প্রকল্প অনুমোদন | নির্বাচন ঘোষণা ও তফসিলের পর উপদেষ্টা পরিষদ নতুন প্রকল্প অনুমোদন করতে পারবে না |
প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা ও বিশেষ প্রস্তুতি
নির্বাচনের পূর্বে উপদেষ্টা পরিষদ নতুন কোনো প্রকল্প অনুমোদন করবে না, যাতে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কোনও প্রভাব বা পক্ষপাতিত্ব না থাকে। এছাড়া নির্বাচন আচরণবিধি প্রতিপালন, ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা, এবং প্রশাসনিক সমন্বয় বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তফসিল ঘোষণার আগে এই ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং আচরণবিধি নিশ্চিতকরণ নির্বাচনকে সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতে অপরিহার্য। এ ধরনের ব্যবস্থা ভোটারদের আস্থা বাড়াবে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করবে।
নির্বাচন কমিশন আশা করছে, নির্বাচনের সকল প্রক্রিয়া সুষ্ঠু সম্পন্ন হবে এবং জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে।
