দক্ষিণ আমেরিকার তেলসমৃদ্ধ দেশ ভেনেজুয়েলায় এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দেশটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৩ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক ভাষণে তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেন যে, ভেনেজুয়েলায় একটি নতুন ও স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই সরাসরি দেশটি পরিচালনা করবে। নজিরবিহীন এই সামরিক হস্তক্ষেপের পর ট্রাম্প দাবি করেন, ভেনেজুয়েলার দীর্ঘকালীন শাসক নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে মার্কিন কমান্ডোরা আটক করেছে এবং তাঁদেরকে ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি একবিংশ শতাব্দীর ভূ-রাজনীতিতে এক চরম অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া বার্তায় এই অভিযানকে ঐতিহাসিক এক বিজয় হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “বিশ্বের অন্য কোনো সামরিক শক্তি যা করে দেখানোর সাহস পায়নি, মার্কিন বাহিনী গত রাতে তা অত্যন্ত নিপুণভাবে সম্পন্ন করেছে।” ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় এবং জ্বালানি নিরাপত্তার খাতিরে খুব শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী তেল কোম্পানিগুলো ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে তাদের কার্যক্রম শুরু করবে।
ভেনেজুয়েলা অভিযান ও বর্তমান পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ
| ঘটনার শিরোনাম | বিস্তারিত তথ্য ও পর্যবেক্ষণ |
| অভিযানের সময়কাল | ৩ জানুয়ারি ভোর ২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত। |
| আক্রমণের ধরন | কারাকাসজুড়ে সিরিজ বিমান হামলা ও বিশেষ কমান্ডো অপারেশন। |
| আটককৃত ব্যক্তি | প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস। |
| ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা | ভেনেজুয়েলার শাসনভার গ্রহণ ও মার্কিন তেল কোম্পানির প্রবেশ। |
| সামরিক সতর্কতা | প্রয়োজনে দ্বিতীয় দফায় বৃহৎ আকারের হামলার প্রস্তুতি। |
| তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া | মাদুরো কর্তৃক জরুরি অবস্থা ঘোষণা ও আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা। |
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার মধ্যরাতে কারাকাসের আকাশ হঠাৎ করেই যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে। প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলা এই ভয়াবহ হামলায় শহরের বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যায় এবং পুরো এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। মার্কিন কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, বিমান হামলার আড়ালে বিশেষ বাহিনী মাদুরোর বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে বন্দি করে। হামলার মুখে পড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে নিকোলাস মাদুরো দেশজুড়ে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে বললেও তা কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ সরাসরি ‘রেজিম চেঞ্জ’ বা সরকার পরিবর্তনের এক নগ্ন প্রচেষ্টা, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ট্রাম্পের বক্তব্যে দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের আক্রমণের হুমকির ফলে ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভেনেজুয়েলার বিশাল খনিজ তেলের মজুতের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই এই সামরিক অভিযানের নেপথ্য কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের এই আগ্রাসী ভূমিকা এখন দক্ষিণ আমেরিকার মানচিত্র ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে এক চরম পরীক্ষার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
