ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে জাতিসংঘের উদ্বেগ

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডকে ‘গভীরভাবে উদ্বেগজনক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানায়, এই পদক্ষেপ “অঞ্চলের জন্য উদ্বেগজনক প্রভাব” ফেলতে পারে এবং তা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।

মহাসচিবের সতর্কবার্তায় বলা হয়, “ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, কোনো রাষ্ট্রের এমনভাবে হস্তক্ষেপ করা আন্তর্জাতিক আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী চুক্তির সীমারেখা অতিক্রম করা হতে পারে।” তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, সব রাষ্ট্রকে জাতিসংঘ সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের বিধি-কানুন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।

মহাসচিবের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে যে, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ভেনেজুয়েলার প্রতি একটি ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপে’ অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি সব রাজনৈতিক পক্ষকে শান্তিপূর্ণ ও সংলাপমুখী সমাধানের পথে এগোনোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া তীব্র হচ্ছে। কলম্বিয়ার অনুরোধে এবং রাশিয়া ও চীনের সমর্থনে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (UNSC) একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। এই বৈঠকে বিশেষভাবে আলোচনা হবে ভেনেজুয়েলায় সামরিক হস্তক্ষেপ এবং এর প্রভাব, সেইসাথে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ।

নিচের টেবিলটি সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরছে:

তারিখঘটনাপ্রভাব/প্রতিক্রিয়া
2026-01-02যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ভেনেজুয়েলায়আন্তর্জাতিক উদ্বেগ, জাতিসংঘ মন্তব্য
2026-01-03মহাসচিবের মুখপাত্রের উদ্বেগ প্রকাশমানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা বিষয়ে সতর্কবার্তা
2026-01-04জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানকলম্বিয়ার অনুরোধ, রাশিয়া ও চীনের সমর্থন

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনাগুলি লাতিন আমেরিকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার উপর দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি এ ধরনের হস্তক্ষেপ নিয়মিত হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে।

মহাসচিব গুতেরেস বারবার জোর দিয়ে বলেছেন, শান্তিপূর্ণ সংলাপ, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখাই বর্তমান সংকট মোকাবেলার একমাত্র কার্যকর উপায়।