ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (UEFA) রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ওপর বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে বেনফিকার বিপক্ষে খেলার সময় এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। উয়েফা জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে তারা একজন বিশেষ ‘নীতি ও শৃঙ্খলা পরিদর্শক’ নিয়োগ দিয়েছে, যিনি মাঠের খেলোয়াড়, রেফারি এবং ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও উত্তপ্ত মাঠ
বেনফিকার ঘরের মাঠ এস্তাদিও দা লুজে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে রিয়াল মাদ্রিদ ১-০ গোলে জয়লাভ করে। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভিনিসিয়ুস গোল করার পর উল্লাসের মুহূর্তে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে যে, বেনফিকার ১৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি ভিনিসিয়ুসকে লক্ষ্য করে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ ও বর্ণবাদী গালি ব্যবহার করেছেন। ঘটনার সাথে সাথেই ভিনিসিয়ুস রেফারির কাছে অভিযোগ করেন এবং প্রতিবাদে রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা মাঠ ছেড়ে চলে যান। এই প্রতিবাদের মুখে ম্যাচটি প্রায় ১১ মিনিট বন্ধ থাকে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও সম্ভাব্য আইনি ফলাফল:
| বিষয় | বিবরণ |
| ম্যাচ ও তারিখ | বেনফিকা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)। |
| অভিযুক্ত খেলোয়াড় | জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি (বেনফিকা)। |
| ভুক্তভোগী খেলোয়াড় | ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)। |
| প্রধান অভিযোগ | পাঁচবার ‘বানর’ (Monkey) বলে সম্বোধন করা। |
| উয়েফার সম্ভাব্য শাস্তি | অভিযোগ প্রমাণিত হলে ন্যূনতম ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। |
| ম্যাচ স্থিতি | বর্ণবাদের প্রতিবাদে ১১ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল। |
এমবাপ্পের সাক্ষ্য ও ভিনিসিয়ুসের প্রতিক্রিয়া
ম্যাচ শেষে রিয়ালের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে সংবাদমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন যে, প্রেস্তিয়ান্নি সচেতনভাবেই তার জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসকে একাধিকবার ‘বানর’ বলে গালি দিয়েছেন। টিভির রিপ্লেতেও দেখা যায়, প্রেস্তিয়ান্নি জার্সিতে মুখ ঢেকে কিছু একটা বলছেন, যা ভিনিসিয়ুসকে তাৎক্ষণিক উত্তেজিত করে তোলে। ভিনিসিয়ুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “বর্ণবাদীরা মূলত কাপুরুষ। তারা সরাসরি বলতে সাহস পায় না বলেই মুখ ঢেকে আক্রমণ করে।”
বেনফিকার অবস্থান ও প্রেস্তিয়ান্নির দাবি
অন্যদিকে, অভিযুক্ত জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভিনিসিয়ুস তার কথা ভুল শুনেছেন এবং উল্টো রিয়ালের খেলোয়াড়রাই তার সাথে অপেশাদার আচরণ করেছেন। পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকাও তাদের খেলোয়াড়ের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংহতি প্রকাশ করেছে। তবে উয়েফার কঠোর নীতির অধীনে যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে প্রেস্তিয়ান্নিকে দীর্ঘমেয়াদী নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বড় অংকের জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। ফুটবল বিশ্বে বর্ণবাদ দূর করতে উয়েফা বর্তমানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে, যার প্রতিফলন এই তদন্তে দেখা যেতে পারে।
