ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক আমেনা আহমেদ আর নেই

বাংলার ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন প্রখ্যাত সংগঠক, রাজনৈতিক নেতা এবং ভাষাসৈনিক আমেনা আহমেদ আর নেই। আজ শনিবার সকাল ১১টায় তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

আমেনা আহমেদ ছিলেন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টা প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ এর সহধর্মিণী। মৃত্যুকালে তিনি একমাত্র কন্যা আইভি রহমান, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।

ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধ সংগঠক হিসেবে তাঁর অবদান দেশের ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। ইডেন কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি ১৯৫২ সালের বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং রাজপথে নানামুখী আন্দোলন সংগঠিত করেছিলেন। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী এবং ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আমেনা আহমেদ ন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন এবং বর্তমান কার্যকরী কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অবদান রাখতেন। তিনি ২০০৯ এবং ২০১৪ সালে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

আমেনা আহমেদের মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ন্যাপ, কমিউনিস্ট পার্টি, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন এবং অসংখ্য ব্যক্তি পর্যায়ে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ছিদ্দিকুর রহমান জানান, আজ শনিবার বাদ মাগরিব কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। পরে স্বামী মোজাফফর আহমেদ এর কবরের পাশে আমেনা আহমেদকে সমাহিত করা হবে।

নিচের টেবিলে আমেনা আহমেদের জীবনসংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

তথ্যবিবরণ
জন্ম ও মৃত্যুজন্ম: ১৯৩৬, মৃত্যু: ২০২৬, বয়স: ৯০ বছর
শিক্ষাইডেন কলেজ
ছাত্র রাজনীতিছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী, ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদের সহসভাপতি
জাতীয় রাজনীতিন্যাপ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও প্রেসিডিয়াম সদস্য
সংসদ সদস্য পদ২০০৯ ও ২০১৪ সালে সংরক্ষিত মহিলা আসন
পরিবারস্বামী: প্রয়াত অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ, কন্যা: আইভি রহমান

আমেনা আহমেদ শুধুমাত্র একজন রাজনৈতিক নেত্রী ছিলেন না; তিনি ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের একজন অগ্রণী নারী হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তাঁর জীবন ও অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও সমাজসেবার অনুপ্রেরণা প্রদান করবে।