খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১৮ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে ২৩তম ভারত-রাশিয়া বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছান। তার আগেই রাশিয়ার ফেডারেল এসেম্বলির (পার্লামেন্ট) নিম্ন এবং উচ্চ কক্ষ ভারতের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি অনুমোদন করেছে।
নতুন এই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের সামরিক বাহিনী একে অপরকে লজিস্টিক্যাল সহায়তা প্রদান করতে পারবে। অর্থাৎ, প্রয়োজনমত এক দেশের বাহিনী অন্য দেশে গিয়ে সামরিক পরিকাঠামো, যানবাহন ও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে সক্ষম হবে। এছাড়া যৌথ মহড়া, প্রশিক্ষণ, মানবিক সহায়তা, ত্রাণ কার্যক্রম এবং জরুরি উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করা হবে।
রাশিয়ার ফার্স্ট ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার ডেনিস মান্তুরেভ সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, “ভারতের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা কৌশলগত। ভবিষ্যতে কারিগরি, শিল্প উৎপাদন এবং প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হবে। ইতিমধ্যেই ভারতের সামরিক সরঞ্জামের ৩০ শতাংশেরও বেশি সরবরাহ মস্কোর থেকে হয়।”
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুতিনের দিল্লি সফরে সুখোই-ফিফটি সেভেন যুদ্ধবিমান, এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ব্রাহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত সংস্করণ কেনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্সিয়াল মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মন্তব্য করেছেন, “দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কতটা এগোবে তা পুরোপুরি ভারতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। সম্পর্ককে তৃতীয় দেশের প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। ভারত যতটা এগোবে, রাশিয়াও সমানভাবে সহযোগিতা বাড়াবে।”
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ভেলিনা চাকারোভা বলেছেন, “রাশিয়া ভারতকে সীমাবদ্ধতা আরোপ করছে না। পুরো নির্ভরতা ভারতের সিদ্ধান্তের উপর। ভারত চাইলে এই সহযোগিতা গ্রহণ করবে, তা রাশিয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
অন্যদিকে, জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের ডিন শ্রীরাম চাউলিয়া বলেন, “রাশিয়ার আশা পূরণ হবে না যদি ভারত যুক্তরাষ্ট্র-বিরোধী চীনা জোটে যোগ দেয়। ভারতের উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক অপরিহার্য, তাই রাশিয়ার সঙ্গে সীমাহীন সহযোগিতা সম্ভব নয়।”
নিচের টেবিলে ভারত-রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা সম্পর্কিত প্রধান বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ | লক্ষ্য/উদ্দেশ্য |
|---|---|---|
| লজিস্টিক্যাল সহায়তা | এক দেশের বাহিনী অপর দেশে যানবাহন ও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারবে | প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া |
| যৌথ মহড়া ও প্রশিক্ষণ | সেনা ও বিমান বাহিনীর সমন্বিত অনুশীলন | কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি |
| মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ | প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা জরুরি অবস্থা মোকাবিলা | দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা প্রদানে সক্ষমতা |
| প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় | সুখোই-৫৭, এস-৪০০, ব্রাহ্মোস উন্নত সংস্করণ | সামরিক ক্ষমতা ও আধুনিকায়ন |
| ভবিষ্যত শিল্প ও প্রযুক্তি সহযোগিতা | রকেট, ড্রোন, এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি | দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সহায়তা |
এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতাকে আরও দৃঢ় করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিরক্ষা ও ভূ-রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে।
মন্তব্য