প্রায় চার বছর ধরে বন্ধ থাকার পর আজ, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ভারত সরকারের গম রফতানিতে প্রযোজ্য নিষেধাজ্ঞা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই নতুন নির্দেশনার ফলে দেশ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারত থেকে গম আমদানি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিতে আগ্রহী ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এবং কয়েক দিনের মধ্যে সরাসরি আমদানির কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারত সরকার শনিবার এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নির্দেশনা জারি করেছে। সূত্রের খবর, অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের মূল্য বৃদ্ধি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের স্বার্থে ২০২২ সালের ১৩ মে ভারতের গম রফতানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। ওই সময় হঠাৎ করে গমের দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকার রফতানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
হিলি বন্দরের বিশিষ্ট আমদানিকারক দিনেশ পোদ্দার জানান, “ভারতের গম রফতানির ওপর যে নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে গেছে। যদিও বর্তমানে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে আমদানি করা গমের দাম ভারতের বাজারের তুলনায় কিছুটা কম। ফলে এখনও ভারত থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে বড় আকারে আমদানির সুযোগ সীমিত।” তিনি আরও বলেন, “কয়েক দিনের মধ্যে নতুন চালান বাজারে আসা শুরু করলে দাম কমে আসবে এবং তখন দেশীয় বাজারে কম মূল্যে গম সরবরাহ করা সম্ভব হবে।”
অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের গমের সম্ভাব্য মূল্য, সরবরাহ এবং আমদানির পরিস্থিতি নিম্নরূপ:
| তথ্যের ধরন | বর্তমান অবস্থা | পূর্বাভাস / মন্তব্য |
|---|---|---|
| নিষেধাজ্ঞা | আজ থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে (১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) | প্রায় ৪ বছর বন্ধ থাকার পর পুনরায় খোলা |
| হিলি বন্দরের প্রস্তুতি | আমদানিকারকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন | গম আমদানির সরাসরি কার্যক্রম কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হতে পারে |
| আন্তর্জাতিক বাজার | ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে আমদানি করা গমের দাম কম | ভারতের বাজারের তুলনায় সস্তা হওয়ায় এখনও তাত্ক্ষণিক আমদানির সুযোগ সীমিত |
| অভ্যন্তরীণ দাম | ভারতের বাজারে গমের দাম কিছুটা বেশি | নতুন চালানের আসার পর দাম কমে আসার সম্ভাবনা |
| বাজার প্রতিক্রিয়া | ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা সক্রিয় | গম আমদানি সহজ হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি পেতে পারে |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভারতের এই সিদ্ধান্ত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে গমের সরবরাহ ও মূল্যে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। প্রতিবেশী দেশগুলো ইতিমধ্যেই ভারতের গম আমদানির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। একই সঙ্গে, অভ্যন্তরীণ বাজারে গমের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় ভারত সরকার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালাবে।
ফলস্বরূপ, ভারতীয় গম আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে যাচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা এবং স্থানীয় বাজারে সরবরাহকে আরও স্থিতিশীল করবে।
