ভারতীয়দের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলসহ ৪ দফা দাবি ইনকিলাব মঞ্চের

শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে চার দফা দাবি পেশ করেছে রাজপথের সক্রিয় সংগঠন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সংগঠনের দাপ্তরিক ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন কর্মসূচি ও দাবিনামা ঘোষণা করা হয়। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সংস্কার এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে সংগঠনটি এই দাবিগুলোকে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন ছাত্র-জনতার আন্দোলনের এক নির্ভীক যোদ্ধা। তাঁর হত্যাকাণ্ড কেবল একটি ব্যক্তিগত অপরাধ নয়, বরং এটি বিপ্লব-পরবর্তী স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার একটি সুগভীর ষড়যন্ত্র। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত খুনিদের পাশাপাশি যারা পর্দার আড়ালে থেকে নীল নকশা সাজিয়েছে, তাদের সকলকেই আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। সংগঠনটি মনে করে, এই বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে, যা শহিদদের আত্মত্যাগের অবমাননা।

ইনকিলাব মঞ্চের ঘোষিত দাবিগুলো এবং এর প্রেক্ষাপট নিচে সারণি আকারে তুলে ধরা হলো:

ইনকিলাব মঞ্চের ৪ দফা দাবির সারসংক্ষেপ

ক্রমিকদাবির মূল বিষয়বিস্তারিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
বিচার কার্যের সময়সীমাখুনি চক্র, পরিকল্পনাকারী ও আশ্রয়দাতাদের শনাক্ত করে আগামী ২৪ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা।
ভারতীয়দের কর্মানুমতি বাতিলদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান রক্ষায় বাংলাদেশে অবস্থানরত সকল ভারতীয়দের ‘ওয়ার্ক পারমিট’ বাতিল করা।
আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপভারত যদি পলাতক খুনিদের হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানায়, তবে দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা দায়ের করা।
প্রশাসনিক শুদ্ধি অভিযানগোয়েন্দা সংস্থাগুলোতে (সিভিল ও মিলিটারি) ঘাপটি মেরে থাকা ফ্যাসিস্ট দোসরদের অপসারণ ও বিচার নিশ্চিত করা।

সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে অত্যন্ত কঠোরভাবে উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্থাসমূহে এখনো পূর্ববর্তী ফ্যাসিবাদী সরকারের অনুগত কর্মকর্তারা সক্রিয় রয়েছেন। এই ‘দোসররা’ প্রশাসনের ভেতরে থেকে সংস্কার কাজকে বাধাগ্রস্ত করছে এবং বিদেশে পালিয়ে থাকা অপরাধীদের সঙ্গে যোগসাজশ রাখছে। এদের অবিলম্বে অপসারণ করে বিচারের মুখোমুখি করা রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

এছাড়া, ভারতের সাথে বিদ্যমান সম্পর্কের ক্ষেত্রেও এক ধরণের কঠোর নীতির প্রস্তাব দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। তাদের দাবি, বহু খুনি ও অর্থ পাচারকারী বর্তমানে পার্শ্ববর্তী দেশে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেছে। এদের ফিরিয়ে আনার জন্য ভারত সরকারকে কূটনৈতিক চাপ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে। একই সাথে বাংলাদেশের অর্থনীতির সুরক্ষা এবং গোপন গোয়েন্দাগিরি রুখতে ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের দাবিকেও তারা সামনে এনেছে।

ইনকিলাব মঞ্চের এই ৪ দফা ঘোষণা তরুণ সমাজের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সংগঠনটি হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, যদি সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই দাবিগুলো পূরণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেয়, তবে তারা দেশব্যাপী বড় ধরণের গণআন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবে। শহিদ হাদির রক্তের ঋণ শোধ করতে এবং একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত রাষ্ট্র গড়তে তারা রাজপথে অবিচল থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।