ব্রিটিশ–কানাডীয়দের চীনে ভিসামুক্ত ভ্রমণ

চীন সরকার যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকদের জন্য সাময়িক ভিসা-মুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বেইজিংয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে মঙ্গলবার থেকে দুই দেশের সাধারণ পাসপোর্টধারীরা নির্দিষ্ট শর্তে ভিসা ছাড়াই চীনে ভ্রমণ করতে পারবেন। এই নীতি চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এই সিদ্ধান্তের পেছনে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। গত জানুয়ারিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি বেইজিং সফর করেন। সফরকালে তারা চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং-সহ শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বহুমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেন।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র–চীন উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের প্রেক্ষাপটে ব্রিটেন ও কানাডা তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য আনার কৌশল নিয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক গভীর করা তাদের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা-মুক্ত সুবিধা সেই প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্য ও কানাডার সাধারণ পাসপোর্টধারীরা ব্যবসা, পর্যটন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সাংস্কৃতিক বিনিময় কিংবা ট্রানজিটের উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ ৩০ দিনের জন্য ভিসা ছাড়াই চীনে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে কর্মসংস্থান, সাংবাদিকতা বা দীর্ঘমেয়াদি পড়াশোনার মতো কার্যক্রম এ সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে—এমনটাই কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

নতুন নীতির মূল দিকগুলো নিচের সারণিতে উপস্থাপন করা হলো:

বিষয়বিস্তারিত তথ্য
সুবিধাপ্রাপ্ত দেশযুক্তরাজ্য, কানাডা
কার্যকারিতা শুরুমঙ্গলবার (ঘোষণা-পরবর্তী)
কার্যকারিতা শেষ৩১ ডিসেম্বর (চলতি বছর)
অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ৩০ দিন
প্রযোজ্য ক্ষেত্রপর্যটন, ব্যবসা, আত্মীয়-স্বজন সাক্ষাৎ, সাংস্কৃতিক বিনিময়, ট্রানজিট
অপ্রযোজ্য ক্ষেত্রকর্মসংস্থান, দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষা, সাংবাদিকতা

চীন ইতোমধ্যে ইউরোপ ও এশিয়ার কয়েকটি দেশের জন্য অনুরূপ ভিসা-সহজীকরণ নীতি চালু করেছে, যার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ও বিনিয়োগ পুনরুজ্জীবিত করা। কোভিড-পরবর্তী সময়ে পর্যটন খাত পুনরুদ্ধারে বেইজিং বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর চীনে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে তা এখনও মহামারিপূর্ব পর্যায়ের নিচে রয়েছে।

ব্রিটিশ ও কানাডীয় ব্যবসায়ী মহল এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, দ্রুত ভ্রমণের সুযোগ বিনিয়োগ, প্রযুক্তি সহযোগিতা এবং শিক্ষাবিনিময়ে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। একইসঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের জন্য এটি পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ সহজ করবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এই ভিসা-মুক্ত সুবিধা কেবল ভ্রমণ-সহজীকরণ নয়; বরং বৃহত্তর কৌশলগত আস্থার প্রতীক। বছরের শেষে নীতিটি নবায়ন বা সম্প্রসারণ করা হবে কি না, তা নির্ভর করবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি ও পারস্পরিক আস্থার ওপর।