ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহর এলাকা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক ভয়াবহ ঘটনার দৃশ্যপটে পরিণত হয়। কান্দিপাড়া মোড়ে হঠাৎ গুলির শব্দে থমকে যায় জনজীবন। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও পারস্পরিক শত্রুতা নতুন উত্তেজনার আগুন ধরায়, যা শেষপর্যন্ত সন্ধ্যার এই দুঃসহ ঘটনায় ফুটে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পরপরই কান্দিপাড়ায় একদল যুবক জড়ো হয়। কিছুক্ষণ পর প্রতিপক্ষের কয়েকজন মোটরসাইকেলযোগে আসে এবং কোনো আলোচনা ছাড়াই এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়ে চলে যায়। গুলির শব্দে এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। দোকানদাররা দ্রুত শাটার নামিয়ে দেন, আর পথচারীরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে শুরু করেন।
ঘটনাস্থল থেকে আহত তিনজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহতরা হলেন—টুটুল (৩৬), শিহাব (৩০) ও সাজু মিয়া। তাঁদের মধ্যে দুইজনকে রাবার বুলেটের আঘাতের কারণে ভর্তি রাখা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নুর ইবনে বিন সিফাত জানিয়েছেন, “রাবার বুলেটে আহত দুইজনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। চিকিৎসা চলছে। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও পর্যবেক্ষণ চলছে।”
ওসি মো. আজহারুল ইসলাম ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য জানিয়েছেন, “সংঘাত এখনও চলমান। আধিপত্যের বিষয়টি শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং এলাকায় আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়েও বিরোধ রয়েছে। আমরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছি এবং যে কোনো জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ বলেন, “এই এলাকায় আধিপত্যের লড়াই নতুন নয়। গত কয়েক মাস ধরে তুচ্ছ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। আজকের ঘটনা তারই পরিণতি। আমরা চাই, সমস্যার স্থায়ী সমাধান হোক, না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারে।”
পুলিশ ঘটনার পর পুরো এলাকা ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এতে যে কোনো ধরনের সংঘাত দ্রুত রোধ করা সম্ভব হবে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানিয়েছেন, গুলির সময় আশেপাশের মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছিল। দোকানদাররা দ্রুত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শাটার নামিয়েছেন এবং পথচারীরা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ায় প্রাণহানির আশঙ্কা কমেছে।
স্থানীয়রা বলছেন, সংঘাতের পেছনে শুধু আধিপত্যের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলা পারিবারিক, রাজনৈতিক ও আর্থিক জটিলতাও মূল কারণ। তারা দাবি করেছেন, সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই দুঃসহ ঘটনায় একটি বার্তা স্পষ্ট—নিয়মিত ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ ছাড়া আধিপত্য ও বিরোধ কখনোই শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয় না। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশ সতর্ক থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। পরিস্থিতি শিথিল না হওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা বৃদ্ধি ও পর্যবেক্ষণ চলবে।
