ব্যাংকের শাখা ভাড়ায় বিআরপিডি সার্কুলার: নতুন সীমা নির্ধারণ

দেশের ব্যাংকিং খাতের প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং শাখা সম্প্রসারণ প্রক্রিয়া সহজতর করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য স্থাপনা ভাড়ার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবৃদ্ধি ও নীতি বিভাগ (BRPD) থেকে জারি করা এই নতুন নির্দেশনায় এখন থেকে অঞ্চলভেদে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ভাড়া নির্ধারিত থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হবে না। মূলত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা এমডিদের সংগঠন এবিবি-র দাবির প্রেক্ষিতেই এই নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়েছে।


নীতিমালার মূল দিকনির্দেশনা

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো এখন থেকে নিজস্ব পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে নতুন শাখা বা ব্যবসাকেন্দ্রের জন্য ভবন ভাড়া বা ইজারা নিতে পারবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বেশ কিছু কঠোর শর্তারোপ করা হয়েছে:

  • স্বার্থসংশ্লিষ্টতা: যদি কোনো ভবনের মালিক ব্যাংকের কোনো পরিচালক বা তাদের পরিবারের সদস্য হন, তবে ভাড়া যাই হোক না কেন, বাধ্যতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে।

  • সীমা লঙ্ঘন: নির্ধারিত সর্বোচ্চ হারের চেয়ে বেশি ভাড়ায় কোনো স্থাপনা নিতে হলে যথাযথ যৌক্তিকতা প্রদর্শনপূর্বক বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ অনুমোদন নিতে হবে।

  • স্থানান্তর ও নবায়ন: চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অফিস স্থানান্তর বা প্রধান কার্যালয়ের ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়ে আগের মতোই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি বজায় থাকবে।

অঞ্চলভেদে প্রতি বর্গফুটের সর্বোচ্চ ভাড়ার তালিকা

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর, পৌরসভা এবং গ্রামীণ এলাকার জন্য ভাড়ার ভিন্ন ভিন্ন হার নির্ধারণ করেছে। নিচে বিভাগভিত্তিক সর্বোচ্চ ভাড়ার (প্রতি বর্গফুট) একটি তুলনামূলক সারণি দেওয়া হলো:

বিভাগীয় শহর/অঞ্চলসিটি করপোরেশন এলাকা (টাকা)‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা (টাকা)পল্লি বা গ্রামীণ এলাকা (টাকা)
ঢাকা১০৪২৮২৪
চট্টগ্রাম৬১২৭২০
বরিশাল৪৮২০১৪
রংপুর৪৫১৭১৩
সিলেট৪০২২১৬
ময়মনসিংহ৩৬১৯১৪
রাজশাহী৩৪২৫১৩
খুলনা৩৪২১১৩

কেন এই পরিবর্তন?

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বেসরকারি খাতের ব্র্যাক ও সিটি ব্যাংকসহ বেশ কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্যাংক তাদের শাখা ও প্রধান কার্যালয় ভাড়ার জন্য আবেদন করে মাসের পর মাস কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় ছিল। প্রায় ৯ মাস ধরে এসব আবেদন ঝুলে থাকায় অনেক ক্ষেত্রে ভবন মালিকরা অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে ভবন ভাড়া দিয়ে দেন, যা ব্যাংকগুলোর ব্যবসায়িক প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছিল।

নতুন গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর ব্যাংক নির্বাহীদের সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ’ (এবিবি) এই জটিলতা নিরসনের দাবি জানায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে ব্যাংকের শাখা স্থাপন এবং স্থানান্তর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল হবে। তবে ভবন ও ফ্লোরের অবস্থান এবং সুযোগ-সুবিধার ভিন্নতা বিবেচনা করে ব্যাংকগুলোকে এই নির্ধারিত সীমার মধ্যেই যৌক্তিকভাবে ভাড়া চূড়ান্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই নির্দেশনার ফলে ব্যাংকগুলোর প্রশাসনিক খরচ যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকবে, তেমনি নতুন শাখা খোলার দীর্ঘসূত্রতাও অনেকাংশে কমে আসবে।