বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র জেবা তাহসিনের পদত্যাগ

ফরিদপুরের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার মুখপাত্র কাজী জেবা তাহসিন পদত্যাগ করেছেন। তিনি রবিবার, ২ নভেম্বর রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি চাঁদাবাজির অভিযোগে বাতিল হওয়া কমিটিগুলো পুনর্বহালের প্রতিবাদ উল্লেখ করেছেন।

পোস্টে তাহসিন লিখেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ফরিদপুর জেলার মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং এটি তার জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে কয়েক মাস আগে সারাদেশের কমিটি স্থগিত হওয়ার পর সম্প্রতি কমিটি পুনরায় সচল হলে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে তিনি পদ থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিচ্ছেন।

তাহসিন আরও উল্লেখ করেছেন, পদত্যাগ করলেও তার আন্দোলনের প্রতি ভালোবাসা, বিশ্বাস এবং দায়বদ্ধতা অটুট থাকবে। তিনি ভবিষ্যতেও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, হয়ত ভিন্ন ভূমিকায়, তবে একই লক্ষ্য—বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার স্বপ্ন—নিয়ে কাজ চালিয়ে যাবেন।

বিষয়টিকে আরও পরিষ্কারভাবে বোঝার জন্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ:

তথ্যবিবরণ
পদত্যাগকারীকাজী জেবা তাহসিন
পদফরিদপুর জেলা শাখার মুখপাত্র
পদত্যাগের তারিখ২ নভেম্বর ২০২৫
পদত্যাগের কারণচাঁদাবাজির অভিযোগে বাতিল হওয়া কমিটি পুনর্বহাল ও ব্যক্তিগত কারণে
কেন্দ্রীয় ঘোষণার তারিখ২৭ জুলাই ২০২৫
কেন্দ্রীয় কমিটির স্থিতিসারাদেশের সব কমিটি স্থগিত
স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের তারিখ২ নভেম্বর ২০২৫
কেন্দ্রীয় সভাপতিরিফাত রশিদ

গত ২৭ জুলাই চাঁদাবাজির অভিযোগের কারণে দেশব্যাপী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব কমিটি স্থগিত করা হয়েছিল। ওইদিন রাজধানীর শাহবাগে এক সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটি বাদে সারাদেশের সব কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশিদ এই ঘোষণার দায়িত্বে ছিলেন।

রবিবার, ২ নভেম্বর, রিফাত রশিদ স্বাক্ষরিত এক পত্রের মাধ্যমে সারাদেশের সকল কমিটির ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হয়। স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে ফরিদপুরের মুখপাত্র কাজী জেবা তাহসিন পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদত্যাগ আন্দোলনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ন সংকেত। তরুণ নেতৃত্বের এমন পদক্ষেপ ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে, তাহসিনের বক্তব্য অনুযায়ী, তার আন্দোলনের প্রতি আনুগত্য অটুট থাকবে এবং তিনি ভবিষ্যতে নতুন কোনো দায়িত্ব নিয়ে আন্দোলনে সক্রিয় থাকতে পারেন।

এ ঘটনায় ফরিদপুর জেলা এবং সারাদেশের ছাত্র আন্দোলন বিশেষ নজর দিয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, নেতাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বাধ্যবাধকতা সম্মান করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আন্দোলনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা আবশ্যক।