জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ৫:৪ পিএম

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় বেপরোয়া গতির বালুবাহী ট্রাকের ধাক্কায় সোহেল রানা (২৫) নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই রাব্বী হাসান (১৮) গুরুতর আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর তাঁকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ধুনট-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের বথুয়াবাড়ি ব্রিজের কাছে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সোহেল রানা শেরপুর উপজেলার মুন্সিপাড়া এলাকার বাবু মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোহেল রানা তাঁর ছোট ভাই রাব্বী হাসানকে সঙ্গে নিয়ে ধুনট উপজেলার রাঙ্গামাটি গ্রামে অবস্থিত শ্বশুরবাড়ি থেকে মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি মুন্সিপাড়ার উদ্দেশে রওনা হন। তাঁরা ধুনট-শেরপুর আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় বথুয়াবাড়ি ব্রিজের কাছাকাছি পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বালুবাহী ট্রাক তাঁদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রাকটি দ্রুতগতিতে চলছিল। ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি সড়কে ছিটকে পড়ে এবং দুই ভাইও পড়ে যান। গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত সোহেল রানা ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাঁর সঙ্গে থাকা রাব্বী হাসানও গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহত রাব্বীকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। এতে কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ধুনট-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কটি বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে বালুবাহী ভারী ট্রাকগুলো অনেক সময় অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করায় সড়কটি ব্যবহারকারী মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের যাত্রীরা ঝুঁকিতে পড়েন। তাঁদের অভিযোগ, ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা আরও ঘটতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নজরদারি এবং চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে বালুবাহী ট্রাকের মতো ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে মানা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে তাঁরা মনে করেন।
ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটি জব্দ করেছে। তবে ট্রাকের চালক ও সহকারী দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাঁদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত সোহেল রানার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একজন তরুণের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই রাব্বী হাসান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, দায়ী চালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং সড়কে বেপরোয়া গতির ভারী যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য