ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত জাতীয় গণভোটে সারাদেশে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলেও বৃহত্তর চট্টগ্রামের ছয়টি আসনে ‘না’ ভোট বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। বিশেষভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলায় ভোটাররা জুলাই ২০২৩ সনদ সম্পর্কিত উদ্বেগ ও সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রতা রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে একমত পোষণ করেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলার চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১২ ও চট্টগ্রাম-১৩ আসনেও ‘না’ ভোটের অগ্রগতি লক্ষণীয়।
বেসরকারি সূত্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ভোটের ফলাফল নিম্নরূপ:
| জেলা/আসন | মোট ভোটার | ‘না’ ভোট | ‘হ্যাঁ’ ভোট | প্রধান পর্যবেক্ষণ |
|---|---|---|---|---|
| রাঙ্গামাটি | ২,৭৩,৮০০ | ১,৭৯,৮০৫ | ৭১,৭১৯ | ‘না’ ভোট প্রায় ৬৬% |
| খাগড়াছড়ি | ৩,৪৩,৩১৪ | ১,৫৫,৯৪২ | বাকী | ‘না’ ভোট প্রাধান্য |
| বান্দরবান | ১,৬৩,৪১৯ | ৯০,১৫৬ | বাকী | ‘না’ ভোটে বড় ব্যবধান |
| চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) | ২,৬১,০৪৭ | ১,৩১,৪৯৩ | বাকী | ‘না’ ভোট প্রায় ৫০%+ |
| চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) | ১,৯৩,৪৯৩ | ১,২৬,৮১৪ | বাকী | ‘না’ ভোট প্রাধান্য |
| চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) | ২,২১,০৩৫ | ১,২৪,৬২৯ | বাকী | ‘না’ ভোটে বড় ব্যবধান |
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান দিলেও স্থানীয় বিএনপি নেতারা ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালিয়েছেন। এর পাশাপাশি আওয়ামী লীগের ভোট ও স্থানীয় প্রভাবও ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বৃহত্তর চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির ২৩টি আসনের মধ্যে ২১টিতে বিএনপি জয়লাভ করেছে। বাকি দুই আসনে জয় পেয়েছে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী। উল্লেখযোগ্য, ‘না’ ভোটে জয়ী হওয়া ছয়টি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
রাজনীতিবিদ ও নির্বাচনী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থানীয় জনগণের July 2023 সনদ সম্পর্কিত উদ্বেগ, ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিক স্বতন্ত্রতা সংরক্ষণের চেষ্টাই প্রধান কারণ। চট্টগ্রামের শহরাঞ্চলেও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতি, রাজনৈতিক বিতর্ক এবং দলীয় নেতাদের কৌশল ভোটারদের ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রভাব ফেলেছে।
ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বৃহত্তর চট্টগ্রামে ভোটাভুটি জাতীয় রীতি থেকে ভিন্ন রূপ গ্রহণ করেছে। পার্বত্য অঞ্চল ও শহরের ভোটাররা কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক নির্দেশনার তুলনায় স্থানীয় প্রভাব ও স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এই ফলাফল আগামী নির্বাচনী কৌশল ও রাজনৈতিক জোট নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত সহযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে।
