বীরউত্তম আনোয়ার হোসেনকে শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রীতমের গান ‘প্রহরী’

জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রীতম হাসান সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ছবি ঘিরে ভক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কৌতূহল সৃষ্টি করেছিলেন। ছবিতে দেখা গেছে, তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যদের মাঝে দাঁড়িয়ে গান গাইছেন। এরপরই আলোচনায় আসে আরেকটি ছবি—সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরিহিত প্রীতম, যার পাশে ছিল রহস্যময় সংখ্যা ‘১৫.০১.২৬’। ভক্তদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, কোনো বিশেষ আয়োজন আসছে। এই অপেক্ষার অবসান ঘটল গতকাল রাত ৯টায়, যখন প্রীতম প্রকাশ করলেন তাঁর নতুন গান ‘প্রহরী’

কিন্তু ‘প্রহরী’ শুধু একটি নতুন গান নয়; এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন। গানটি উৎসর্গ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে প্রথম শহীদ সামরিক কর্মকর্তা বীরউত্তম লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের স্মরণে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের আগে সংঘটিত প্রতিরোধ যুদ্ধে তিনি প্রথম শহীদ সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের এই সাহসী অফিসার দেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মত্যাগ করে ইতিহাসে অমর হয়েছেন। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র তাঁকে ‘বীরউত্তম’ খেতাবে ভূষিত করে, যা তাঁর অসামান্য বীরত্বের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি।

ঢাকার সেনানিবাসে অবস্থিত শহীদ বীরউত্তম লেফটেন্যান্ট আনোয়ার গার্লস কলেজ এখনও তাঁর স্মৃতিকে ধারণ করে রেখেছে। সেই ধারাবাহিকতায় ‘প্রহরী’ গানটি নতুন প্রজন্মের কাছে একজন অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের গল্প পৌঁছে দিচ্ছে। সংগীতের মাধ্যমে ইতিহাসকে অনুভব করানোর এই উদ্যোগ প্রীতম হাসানের ক্যারিয়ারে একটি ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

গানটির কণ্ঠ ও সংগীতায়োজন করেছেন প্রীতম হাসান, লিখেছেন রাসেল মাহমুদ, এবং ভিডিও নির্মাণ করেছেন মানজুর অনিক। প্রীতম জানান, দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রকল্প নিয়ে আলোচনা চলছিল। সময় ও প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতার কারণে কাজটি কিছুটা বিলম্বিত হলেও, তাঁরা চেয়েছেন বিষয়বস্তুর প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখে অর্থবহ কিছু উপস্থাপন করতে। তাঁর ভাষায়, গানটি নতুন প্রজন্মের কাছে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় ও ভিন্নধর্মী অনুভূতি তৈরি করবে।

নিচের টেবিলে ‘প্রহরী’ গানটির মূল তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

বিষয়তথ্য
গানের নামপ্রহরী
কণ্ঠ ও সংগীতপ্রীতম হাসান
গীতিকাররাসেল মাহমুদ
ভিডিও নির্মাতামানজুর অনিক
প্রকাশের সময়রাত ৯টা
উৎসর্গবীরউত্তম লেফটেন্যান্ট মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন

সব মিলিয়ে, ‘প্রহরী’ শুধুমাত্র একটি গান নয়; এটি ইতিহাস, শ্রদ্ধা ও আধুনিক সংগীতচিন্তার এক অনন্য সংযোগ। প্রীতম হাসান প্রমাণ করেছেন, সংগীতের শক্তি দিয়ে জাতির স্মৃতি, আত্মত্যাগ এবং গৌরব নতুন প্রজন্মের কাছে প্রাণবন্তভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।