রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব এলাকায় ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের রেশ না কাটতেই তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা কলেজ, আইডিয়াল কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার দুপুর ১টার দিকে ঢাকা কলেজ, আইডিয়াল কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ।
এদিকে সংঘর্ষের জেরে রাজধানীর গ্রিনরোড এলাকায় যান চলাচল বন্ধ করে দেয় ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা। এতে ফার্মগেট, নিউমার্কেটসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিস্ফোরণের রেশ না কাটতেই তিন কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
বিষয়টি নিশ্চিত করে নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল গনি সাবু সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাজ করছে। সংঘর্ষের কারণ এখনও সুনির্দিষ্টভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, আইডিয়াল কলেজের বাসে ঢিল মারাকে কেন্দ্র সংঘর্ষের শুরু হয়েছে।
এ সময় সাইন্সল্যাব এলাকায় ধসে পড়া ভবনের সংবাদ প্রকাশ করতে আসা সাংবাদিকরা শিক্ষার্থীদের ভিডিও করতে গেলে তারা গণমাধ্যম কর্মীদের ক্যামেরা কেড়ে নেয় এবং কয়েকজনকে অপমান অপদস্থ করে। এ সময় পুলিশ তাদের রক্ষা করে।
অপমান অপদস্তর শিকার হয়ে প্রথম আলোর ক্যামেরাম্যান জাকারিয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন, লাঠি সোটা নিয়ে আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের তাড়া করছিলো, ভিডিও করতে গেলে তারা খারাপ আচরণ করে।
এর আগে সকালে সায়েন্স ল্যাব এলাকায় একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে ভবনটির একাংশ ধসে পড়েছে।

এদিকে, দুর্ঘটনায় পাঁচজন দগ্ধসহ আহত বেশ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনটির নিচতলায় হোটেল, দোতলায় সেলুন ও প্যান্টের দোকান রয়েছে। তৃতীয় তলায় ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি থাকতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে কেউ বিস্ফোরণের কারণ জানাতে পারেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, এসি অথবা সিলিন্ডার থেকে এ বিস্ফোরণ ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার খালেদা ইয়াসমিন জানান, সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে প্রিয়াঙ্গন শপিং সেন্টারের পাশে বিস্ফোরণে ৩ তলা একটি ভবনের একাংশ ধসে পড়ে এবং তাতে আগুন ধরে যায়।
ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট কাজ করে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। তবে বিস্ফোরণের কারণ জানাতে পারেননি তিনিও।
পরে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও নিউমার্কেট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুসন্ধান চালায়। তবে, সেখানে বিস্ফোরকের কোনো আলামত তারা পায়নি।
আরও দেখুনঃ