টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বহুল প্রতীক্ষিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের অনিশ্চয়তা অবশেষে কেটে গেছে। দীর্ঘ নাটকীয়তা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন শেষে পাকিস্তান সরকার নিশ্চিত করেছে যে, আগামী ১৫ তারিখ ভারতের বিপক্ষে হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামবে তাদের দল। লাহোরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে আইসিসি প্রতিনিধি দল ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) মধ্যকার ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের পর এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আসে। আজ পেশোয়ারে এক সংবাদ সম্মেলনে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি এই সিদ্ধান্তের পেছনের মূল কারণ ও বাংলাদেশের প্রতি সংহতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের প্রতি অন্যায়
এবারের বিশ্বকাপের ডামাডোলের মধ্যে মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করে। সাম্প্রদায়িক উগ্রপন্থীদের হুমকির মুখে মোস্তাফিজকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া হলে বাংলাদেশ সরকার ও বিসিবি তীব্র নিরাপত্তা শঙ্কা প্রকাশ করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিসিবি ভারতে বিশ্বকাপ দল পাঠাতে অস্বীকৃতি জানায় এবং ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দেয়। তবে আইসিসি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে অত্যন্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাংলাদেশকে আসর থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করে। আইসিসির এই সিদ্ধান্তকে ‘দ্বিমুখী নীতি’ হিসেবে অভিহিত করে পাকিস্তান শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়।
মহসিন নাকভির বক্তব্য ও কূটনৈতিক বিজয়
মহসিন নাকভি আজ সাংবাদিকদের জানান যে, পাকিস্তানের ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ ছিল না, বরং তাদের লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের আলোচনায় বাংলাদেশের প্রসঙ্গ ছাড়া অন্য কোনো শর্ত রাখিনি। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের জন্য সম্মান আদায় করা এবং তাদের সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের প্রতিকার করা।”
নিচে এই সংকট ও সমাধান প্রক্রিয়ার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ ও সিদ্ধান্ত |
| মূল সংকট | নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশের ভারত সফরে অস্বীকৃতি |
| আইসিসির প্রাথমিক পদক্ষেপ | বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্তকরণ |
| পাকিস্তানের অবস্থান | বাংলাদেশের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ম্যাচ বর্জনের হুমকি |
| ত্রিপক্ষীয় বৈঠক | লাহোরে বিসিবি, পিসিবি ও আইসিসির মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠক |
| চূড়ান্ত ফলাফল | আইসিসি অন্যায় স্বীকার করেছে এবং বাংলাদেশের দাবি মেনে নিয়েছে |
| ভারত-পাক ম্যাচ | আগামী ১৫ তারিখ নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে |
ক্রিকেটে ভ্রাতৃত্বের নতুন দৃষ্টান্ত
নাকভি আরও যোগ করেন যে, আইসিসি যখন শেষ পর্যন্ত স্বীকার করে নিয়েছে যে বাংলাদেশের প্রতি আচরণটি অন্যায্য ছিল এবং বিসিবির দাবিগুলো মেনে নিয়েছে, তখনই পাকিস্তান সরকার সবুজ সংকেত প্রদান করে। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “আপনারা দেখেছেন বাংলাদেশ যা চেয়েছিল, তার সবই মেনে নেওয়া হয়েছে এবং এটাই মূল বিষয়। যখন তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়া হলো এবং এটা স্বীকার করা হলো যে তাদের সঙ্গে অন্যায় হয়েছে, তখনই আমরা আবার খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”
ক্রিকেট বিশ্বের এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, মাঠের লড়াইয়ের বাইরেও বোর্ডগুলোর মধ্যকার ভ্রাতৃত্ব ও সংহতি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে। পাকিস্তানের এই অনড় অবস্থান কেবল তাদের প্রতিবেশী দেশের প্রতি সমর্থন নয়, বরং আইসিসির একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধেও একটি বড় প্রতিবাদ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এই সমঝোতার ফলে ক্রিকেট বিশ্ব এখন ১৫ তারিখের ব্লকবাস্টার লড়াইয়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
