জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের যৌন হয়রানির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তার প্রতিবেদন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) জমা দিয়েছে। জাহানারা অভিযোগ করেছেন যে, জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্য তার সঙ্গে অনৈতিক আচরণ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিসিবি একটি পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল।
তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আগের দিন হাইকোর্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনগত অগ্রগতি ঘটে। বিসিবির দীর্ঘদিনের নীরবতা নিয়ে আইনগত ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করে। বিচারপতি আহমদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ রিট আবেদনের শুনানি শেষে রুল জারি করে, যাতে বিসিবি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার কারণ এবং ভবিষ্যতে নেওয়া পদক্ষেপ আদালতকে জানায়।
বিসিবির পরিচালক এক তথ্যসূত্রে যুগান্তরকে বলেন, “স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থে হয়তো তদন্ত কমিটিকে কিছুটা বেশি সময় লেগেছে। তবে তারা সঠিকভাবে জাহানারার বিষয়টি নিয়ে রিপোর্ট বোর্ডে জমা দিয়েছে। এখন প্রতিবেদনটি ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে পাঠানো হবে।”
জাহানারা আলম ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মনজুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ প্রকাশের পর বিসিবি অবিলম্বে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে। মূল সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে দুই দফায় সময় বৃদ্ধি করে, এবং ৩১ জানুয়ারি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা নির্ধারণ করা হয়। তবে ওই দিন বিসিবি কার্যালয় বন্ধ থাকায় কমিটি প্রতিবেদন একদিন পর জমা দেয়।
তদন্ত কমিটি এবং বিসিবির পদক্ষেপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযোগকারী | জাহানারা আলম, জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক |
| অভিযোগের বিপরীতে | জাতীয় দলের ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্য |
| তদন্ত কমিটি | পাঁচ সদস্যের স্বাধীন কমিটি |
| প্রতিবেদন জমা | ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ |
| পরবর্তী ধাপ | ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে পাঠানো হবে |
| আদালতের রুল | বিসিবিকে সময়মতো প্রতিবেদন জমা না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা |
বিসিবি সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন এবং সংক্রান্ত তথ্য যথাসময়ে জনসাধারণের কাছে প্রকাশ করা হবে। এ পদক্ষেপটি বিসিবির মধ্যে স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে।
