আফগানিস্তান ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৪ সালের সংস্করণে তারা সেমি-ফাইনালে পৌঁছাতে সক্ষম হলেও, ২০২৬ সালের প্রতিযোগিতায় মাত্র সুপার এইট পর্যায়ে থেমে গেছে। দলের এই ব্যর্থতার মূল দায়ারোপ পড়েছে অধিনায়ক রশিদ খানের কাঁধে।
আফগান সংবাদমাধ্যম আমু টিভি-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার পর রশিদ খানের অধিনায়কত্ব শীঘ্রই পরিবর্তন হতে পারে। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে সম্ভাব্য নেতৃত্বপ্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন ইব্রাহিম জাদরান, যদিও রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই-র নামও আলোচনায় রয়েছে। তবে ওমরজাই নিজেই ঘোষণা করেছেন যে, তিনি অধিনায়কত্ব নিতে আগ্রহী নন।
সূত্র জানিয়েছে, ব্যক্তিগত বা কৌশলগত কারণ দেখিয়ে রশিদকে নেতৃত্ব থেকে সরানো হতে পারে। আফগান ক্রিকেট বোর্ড এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা দেয়নি। তবে জানা যায়, চলতি বিশ্বকাপ শুরুর আগে বোর্ডের পরিকল্পনায় ইতিমধ্যেই রশিদকে সরানোর কথা ছিল। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সেই পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছিল।
রশিদ খানের অধিনায়কত্ব আফগানিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য। ২০১৯ সালে তিনি প্রথমবার টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ছয় বছরের বেশি সময় ধরে তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, মোট ৪৮ ম্যাচে। তার অধীনে আফগানিস্তান ২৬ ম্যাচে জয়লাভ করেছে, এবং ২১ ম্যাচ হেরেছে।
নীচের টেবিলে রশিদ খানের অধিনায়কত্বকালে আফগানিস্তানের পারফরম্যান্স সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| অধিনায়কত্বকাল | মোট ম্যাচ | জয় | হার | মন্তব্য |
|---|---|---|---|---|
| ২০১৯–২০২৫ | ৪৮ | ২৬ | ২১ | ছয় বছরের নেতৃত্বে স্থিতিশীলতা ও কিছু অপ্রত্যাশিত ব্যর্থতা |
এছাড়া নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনায় জাদরান ও গুরবাজ-কে প্রধান প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ক্ষেত্রে দলীয় অভ্যন্তরীণ মতামত এবং পারফরম্যান্স উভয়কেই গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর আফগান ক্রিকেটে নেতৃত্ব পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে ধরা হচ্ছে। নতুন অধিনায়ক দলের ভবিষ্যতের ধারাবাহিক সাফল্য এবং টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আফগানিস্তানের অবস্থান দৃঢ় করার জন্য দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি ক্রিকেট অনুরাগীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে, যেখানে অনেকেই রশিদ খানের ব্যর্থতা ও পরবর্তী নেতৃত্বের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছেন। আফগানিস্তান এখন নতুন দিকনির্দেশনা ও নেতৃত্বের অপেক্ষায়।
