অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও বেতন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির মূল দায়িত্ব হবে তিনটি কমিশনের প্রতিবেদনে প্রস্তাবিত বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা সম্পর্কিত বিষয়গুলি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সরকারের নিকট সুপারিশ দাখিল করা।
কমিটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিব। কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং হিসাবরক্ষণ সংক্রান্ত প্রধান কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। সরকারের সূত্রে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সরকারি কর্মচারী, বিচারিক কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।
নিচের টেবিলে কমিটির প্রধান ও সদস্যদের সংক্ষিপ্ত তালিকা তুলে ধরা হলো:
| পদবী / দপ্তর | নাম / দায়িত্ব |
|---|---|
| কমিটির প্রধান | মন্ত্রিপরিষদ সচিব |
| সদস্য | জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব |
| সদস্য | প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব |
| সদস্য | অর্থ বিভাগের সচিব |
| সদস্য | মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব |
| সদস্য | প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সচিব |
| সদস্য | স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব |
| সদস্য | আইন ও বিচার বিভাগের সচিব |
| সদস্য | হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সেগুনবাগিচা, ঢাকা) – হিসাব মহানিয়ন্ত্রক (সিজিএ) |
কমিটি তিনটি কমিশনের বেতন সংক্রান্ত প্রস্তাবসমূহ বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে। এতে সরকারি কর্মকর্তা, বিচারিক কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। প্রস্তাবিত সুপারিশগুলো সরকার গ্রহণ করলে দেশের সরকারি কর্মচারী ও সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে।
বিশেষভাবে জুডিশিয়াল সার্ভিস এবং সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোতে সমন্বয় আনা এবং জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করা এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, সুপারিশ প্রণয়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের প্রণোদনা বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনার পরে তা সরকারের নিকট দাখিল করা হবে। এরপর সরকার প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দেশের সরকারি কর্মচারী ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামোর সমন্বয় এবং উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।
