লক্ষ্মীপুরে বিয়ের দেড়মাসের মাথায় বিষক্রিয়ায় খুরশিদা বেগম (১৯) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃতের স্বজনদের দাবি, স্বামী ফজলুল করিম পারিবারিক বিরোধের জেরে শরবতের সঙ্গে বিষ প্রয়োগ করে তাকে হত্যা করেছেন।
মঙ্গলবার (২ মে) সকালে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী ফজলুল করিমকে আটক করেছে পুলিশ।
বিয়ের দেড়মাসের মাথায় বিষক্রিয়ায় গৃহবধূর মৃত্যু, স্বামী আটক
মৃত খুরশিদা বেগম জেলার কমলনগর উপজেলার চরলরেঞ্চ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জারিয়ার বাপের বাড়ি এলাকার জিয়াউর রহমানর মেয়ে।
অভিযুক্ত স্বামী ফজলুল করিম সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের বটতলী এলাকার জালাল আহম্মদের ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশা চালক।
খুরশিদা বেগমের ভাই মুশফিকুর রহিম বলেন, দেড় মাস আগে পারিবারিকভাবে ফজলুর করিমের সঙ্গে আমার বোনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর জানতে পারি, আমার বোনের স্বামী মাদকাসক্ত। বিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ৭০ হাজার টাকা এবং অর্ধভরি স্বর্ণ দিতে হয়েছে। অটোরিকশা কেনার জন্য আরও ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন তিনি। কিন্তু সেটা দেওয়ার মতো আমাদের সাধ্য ছিল না।
মুশফিকুর রহিম অভিযোগ করে বলেন, সোমবার রাতে আমার বোনের সঙ্গে তার স্বামীর ঝগড়া হয়। ওইরাতে তিনি মাদকসেবন করে ঘরে এসে আমার বোনকে মারধর করেন। আমার বোন তাকে মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় তিনি বোনের ওপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে আমরা জানতে পারি, আমার বোন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে আছে। গিয়ে দেখি বোনের মৃত্যু হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, আমার বোনকে শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ানো হয়েছে। রাতেই নাকি আমার বোনের স্বামী বিষ কিনে আনেন। স্বামীর দেওয়া বিষযুক্ত শরবত খেয়ে আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে।
মৃতের মামা সাবেক ইউপি সদস্য শাহাবুদ্দিন বলেন, আমার ভাগ্নিকে যৌতুকের দাবিতে তার মাদকাসক্ত স্বামী হত্যা করেছে। ঘটনাটি আমরা থানা পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশ তার স্বামীকে হাসপাতাল থেকে থানায় নিয়ে গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, বিষপানে খুরশিদা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তার স্বামী ফজলুল করিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। মরদেহের ময়নাতদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।