বিটিএস কনসার্টের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম ও ভক্তদের উন্মাদনা

দীর্ঘ চার বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বখ্যাত দক্ষিণ কোরীয় ব্যান্ড বিটিএস তাদের নতুন ওয়ার্ল্ড ট্যুর ‘আরিরাং’-এর ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে বিটিএস ভক্ত বা ‘আর্মি’দের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা দিলেও, টিকিটের আকাশচুম্বী দাম এবং দুষ্প্রাপ্যতা নিয়ে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার গয়াং প্রদেশে অনুষ্ঠেয় প্রথম তিনটি শো-র টিকিট ছাড়ার মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক ভক্ত হতাশ হয়েছেন।

গয়াং কনসার্ট ও টিকিটের মূল্যবৃদ্ধি

আগামী ৯ এপ্রিল দক্ষিণ কোরিয়ার গয়ংগি প্রদেশের গয়াং স্পোর্টস কমপ্লেক্সে এই ট্যুর শুরু হতে যাচ্ছে। এখানে তিনটি শোর আয়োজন করা হয়েছে, যার প্রতিটির টিকিট পাওয়ার জন্য হাজার হাজার মানুষ অনলাইনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করেছেন। গয়াং কনসার্টের জন্য সর্বোচ্চ মানের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৪ হাজার উন (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ হাজার ২০০ টাকা)। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত বিটিএসের ‘পারমিশন টু ড্যান্স অন স্টেজ’ কনসার্টের তুলনায় এই দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।

কে-পপ শিল্পে টিকিটের তুলনামূলক চিত্র

বর্তমানে শুধু বিটিএস নয়, বরং সামগ্রিকভাবে কে-পপ কনসার্টের টিকিটের দাম দুই লাখ উনের ঘর ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন ব্যান্ডের প্রিমিয়াম প্যাকেজ এবং মিট-অ্যান্ড গ্রিট সুবিধার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি আরও দৃশ্যমান হচ্ছে। নিচে বিভিন্ন কে-পপ গ্রুপ ও তাদের টিকিটের দামের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:

ব্যান্ডের নামকনসার্ট/প্যাকেজটিকিটের সর্বোচ্চ মূল্য (উনে)আনুমানিক বাংলাদেশি টাকা
বিটিএস‘আরিরাং’ ওয়ার্ল্ড ট্যুর২,৬৪,০০০২২,২০০
ইললিটমিট অ্যান্ড গ্রিট২,৫৩,০০০২১,৩০০
এনহাইপেনমিট অ্যান্ড গ্রিট (২০২৪)২,৫৩,০০০২২,০০০
এনহাইপেনসাউন্ডচেক সিট (২০২৪)২,২০,০০০১৮,৫০০
এনহাইপেনসাধারণ কনসার্ট (২০২৩)১,৯৮,০০০১৬,০০০

দাম বাড়ার কারণ ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

সংগীত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কনসার্টের টিকিটের এই মূল্যবৃদ্ধি অনেকটাই অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান সময়ের কনসার্টগুলো কেবল মঞ্চে গান গাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এতে যুক্ত হয়েছে বড় আকারের প্রোডাকশন, ইমার্সিভ সাউন্ড সিস্টেম, জটিল স্টেজ ডিজাইন এবং বিশেষায়িত কারিগরি কাজ। এছাড়া বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির কারণে পরিবহন, স্টেজ সরঞ্জাম ভাড়া এবং লজিস্টিকস খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। বিশেষ করে স্টেডিয়াম ট্যুরগুলোতে নিরাপত্তা ও কর্মী ব্যবস্থাপনার জন্য সাধারণ হলের তুলনায় দ্বিগুণ ব্যয় হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়া

টিকিটের দাম নিয়ে স্থানীয় ভক্তদের অভিযোগ থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দক্ষিণ কোরিয়ায় কনসার্টের খরচ এখনো কিছুটা কম। জাপানে ভিআইপি টিকিটের দাম ৪৫ হাজার ইয়েন (প্রায় ৩৫ হাজার টাকা) থেকে শুরু হয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বা উত্তর আমেরিকায় এই দাম আরও আকাশচুম্বী। যুক্তরাষ্ট্রে প্রিমিয়াম আসনের টিকিটের দাম ৮০০ ডলার (প্রায় ৯৭ হাজার টাকা) পর্যন্ত পৌঁছাতে দেখা গেছে। অনেক ভক্তকে প্রিসেল বা সেকেন্ডারি মার্কেট থেকে চড়া মূল্যে টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।

তরুণ ভক্তদের ওপর প্রভাব

বিটিএস বা কে-পপ ভক্তদের বড় অংশই কিশোর-কিশোরী বা তরুণ শিক্ষার্থী। সংগীত সমালোচক লিম হি-ইউনের মতে, দুই লাখ উনের বেশি দাম একজন শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত চড়া। অনেক ক্ষেত্রেই তাদের টিকিটের জন্য পরিবারের ওপর নির্ভর করতে হয়। তাই টিকিটের দাম এমন পর্যায়ে রাখা উচিত যাতে ভক্তরা নিজেরাই তা বহন করতে সক্ষম হয়। তাসত্ত্বেও বিটিএসের প্রতি ভক্তদের যে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, তাতে টিকিটের দাম বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারছে না; বরং কনসার্ট শুরু হওয়ার আগেই সব টিকিট শেষ হওয়াই তার প্রমাণ।

বিটিএসের এই বিশ্ব সফরের ঘোষণা বিশ্বজুড়ে সংগীত প্রেমীদের মধ্যে যে রোমাঞ্চ তৈরি করেছে, তা টিকিটের দাম নিয়ে বিতর্কের চেয়েও অনেক বেশি জোরালো।