বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের সামনে এবার অস্ট্রেলিয়ার জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা বিগ ব্যাশ লিগে খেলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা মোস্তাফিজ ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাছে অনাপত্তিপত্রের (এনওসি) জন্য আবেদন করেছেন। বোর্ডের অনুমতি মিললেই অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে প্রতিযোগিতাটিতে অংশ নেওয়ার পথ খুলবে তাঁর।
মোস্তাফিজের পাশাপাশি বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনও বিগ ব্যাশে খেলার জন্য বিসিবির কাছে এনওসি চেয়েছেন। বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। ফলে আসন্ন টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটারের অংশগ্রহণ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে তাঁদের খেলার বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বোর্ডের অনুমতি পাওয়ার পর।
বিগ ব্যাশে সুযোগ পাওয়া মোস্তাফিজের ক্যারিয়ারে নতুন অভিজ্ঞতা যোগ করতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার মাধ্যমে ক্রিকেটাররা ভিন্ন কন্ডিশন, ব্যাটিংয়ের ধরন এবং প্রতিপক্ষের কৌশলের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বোলারদের জন্য বৈচিত্র্য ধরে রাখা এবং চাপের মুহূর্তে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মোস্তাফিজের বোলিংয়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য তাঁর কাটার ও গতির পরিবর্তন। এসব ডেলিভারির সাহায্যে তিনি ব্যাটারদের ছন্দ নষ্ট করতে পারেন। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তাঁর এই দক্ষতা তাঁকে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো ভিন্ন পরিবেশে খেলার সুযোগ পেলে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি নিজের বোলিংয়ের কার্যকারিতা যাচাই করার সুযোগও পাবেন তিনি।
তবে বিগ ব্যাশে অংশ নেওয়ার কারণে ঘরোয়া ডি৩ টুর্নামেন্টের একটি বড় অংশে মোস্তাফিজকে পাওয়া যাবে না। ওয়ানডে সংস্করণে তাঁকে খেলার সুযোগ দেওয়া সম্ভব হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সময়সূচিগত সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আগ্রহ তুলনামূলক কম ছিল বলে জানা গেছে।
শেষ পর্যন্ত সেভেন রিংস সিমেন্ট মোস্তাফিজকে দলে নিতে খরচ করেছে মাত্র ৭০ লাখ ভার্চুয়াল পয়েন্ট। এই অঙ্কে তাঁকে দলে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এলেও তাঁর প্রকৃত পারফরম্যান্স কেমন হবে, তা নির্ভর করবে মাঠের খেলায়।
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের বিগ ব্যাশে অংশগ্রহণের ইতিহাস অবশ্য আগেই শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই প্রতিযোগিতায় খেলেছিলেন সাকিব আল হাসান। এরপর গত মৌসুমে হোবার্ট হারিকেনসের হয়ে মাঠে নামেন রিশাদ হোসেন। নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কাড়েন এই লেগ স্পিনার।
রিশাদ ১২ ম্যাচে ১৫টি উইকেট নেন। তাঁর কার্যকর বোলিং হোবার্ট হারিকেনসকে নকআউট পর্বে পৌঁছাতে সহায়তা করে। বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে এমন পারফরম্যান্স বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সামর্থ্য তুলে ধরার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ায়।
সাকিব ও রিশাদের পর এবার মোস্তাফিজের বিগ ব্যাশে খেলার সম্ভাবনা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য নতুন সংযোজন হতে পারে। তবে আপাতত তাঁর অস্ট্রেলিয়া যাত্রার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিসিবির ছাড়পত্র। এনওসি অনুমোদিত হলে তবেই নিশ্চিত হবে বিগ ব্যাশে তাঁর অংশগ্রহণ।









