বিক্রি বন্ধ করে দিলো গ্রামীণ ইউনিক্লো । গ্রামীণ ব্যাংক গ্রুপ ও জাপানের ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের মালিকানাধীন এ প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার এ তথ্য দেন।
তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার মত বেশ কয়েকটি সামাজিক সমস্যা মোকাবেলার লক্ষ্য নিয়ে ২০১০ সালে গ্রামীণ ব্যাংক গ্রুপের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বাংলাদেশে পোশাক ব্যবসা শুরু করে।
বিক্রি বন্ধ করে দিলো গ্রামীণ ইউনিক্লো
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে এবং সেই সঙ্গে ব্যবসায় পরিবেশের পরিবর্তন ঘটেছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে তারা যে ভূমিকা পালনের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা সম্পূর্ণরুপে পূরণ হয়েছে। সে কারণেই কোম্পানিটি বাংলাদেশে খুচরা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি জানান।

সামাজিক সমস্যা সমাধানে কি লক্ষ্য ছিল এ প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সামাজিক ব্যাবসায়কে উন্নতকরণ, নারীর ক্ষমতায়ন, দারিদ্রসীমার নিচে যারা আছে তাদেরকে সাহায্য করা ও বৈশি^ক মানের পোষাক সরবরাহ করা ছিল তাদের উল্লেখযোগ্য লক্ষ্য। এখন এগুলো পুরন হয়েছে।
আউটলেটে কাজ করা ১৫০ জন কর্মীকে কি করবেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু লোকবলকে তারা কারখানার কার্যক্রমে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য পাঠাবে। আর যারা টার্মস এন্ড কন্ডিশনে পারবেননা তাদেরকে যথাযথ ভর্তুকি দেয়া হবে।
এসব কার্যক্রম শেষ করতে তাদের আগষ্ট মাস পর্যন্ত সময় লেগে যাবে। তবে জুনের মধ্যেই ১৮টি বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ করা হবে বলে তিনি জানান।
গ্রামীণ ইউনিক্লো তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে লিখেছে, আমরা দুঃখের সাথে জানাচ্ছি, গ্রামীণ ইউনিক্লোর ১০টি স্টোর আগামী জুন ১৮, ২০২৩ এর মধ্যে আমরা বন্ধ করব এবং এর সাথে সাথে গ্রামীণ ইউনিক্লোর ব্যবসায় কার্যক্রমও বন্ধ হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৩ সালে আমরা মূলত রাজধানী ঢাকার সায়দাবাদ ও বনশ্রীতে স্টোর চালু করেছি এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য পোশাক সরবারহ ও নিরাপদ পরিবেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সেই সাথে ব্যবসায়িক পরিবেশের পরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা মনে করছি যে, আমাদের ব্যবসায় একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জন করতে সফল হয়েছে এবং এই প্রেক্ষিতে আমরা আমাদের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশে ফাস্ট রিটেইলিং এর কার্যক্রম চলমান থাকবে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে প্রডাকশন অফিস শুরুর মাধ্যমে টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখছে এবং সহযোগী কারখানাগুলো ইউনিক্লোসহ ফাস্ট রিটেইলিং এর পোশাক উৎপাদন আগামীতে অব্যাহত থাকবে।
এছাড়াও ফাস্ট রিটেইলিং বাংলাদেশের মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে। চলমান উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি, যা ২০১৯ সালে ইউএন উইমেনের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে চালু করা হয়েছিল যাতে পোশাক কারখানায় নেতৃত্বের ভূমিকায় বাংলাদেশের নারীদের উন্নয়নে সহায়তা করা হয়।
বাংলাদেশকে ফাস্ট রিটেইলিংয়ের ‘অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ’ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ব্যবসা বন্ধ হলেও বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে তারা কাজ চালিয়ে যাবে এবং নারীর ক্ষমতায়নে তাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।