বাবার হাত ধরে ‘খুদে মেসি’ সোহানের স্বপ্নযাত্রা বিকেএসপিতে

চাঁদপুরের ফুটবল–পাগল খুদে প্রতিভা সোহান অবশেষে পা রাখল বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—বিকেএসপি’তে। মাত্র ছয় বছর বয়সেই ফুটবলের নানা কৌশল, বল নিয়ন্ত্রণ ও ড্রিবলিং দক্ষতা দিয়ে ভাইরাল হওয়া এই শিশুকে এখন দেশের সর্বোচ্চ ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গড়ে তোলার পথ আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে গেল।

বিকেএসপিতে সোহানের প্রথম দিন

বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বাবার হাত ধরে সাভারের বিকেএসপি ক্যাম্পাসে পৌঁছে সোহান। সেখানে উপস্থিত কর্মকর্তারা শুরুতেই বিকেএসপির কয়েকজন ফুটবল কোচকে নিয়ে মাঠে তার অনুশীলন দেখেন। ছোট্ট শরীর, কিন্তু অবিশ্বাস্য দ্রুততা—বল পায়ের সঙ্গে রাখার ক্ষমতা, ড্রিবলিং, নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই দেখে কোচরা অভিভূত হন। সন্তোষ প্রকাশের পরই দ্রুত সম্পন্ন হয় তার ভর্তি কার্যক্রম।

স্থানীয় প্রশাসনের ভালোবাসা ও সহায়তা

সোহানের প্রতিভা বিকাশে পাশে দাঁড়িয়েছে তার উপজেলা প্রশাসন। আগের রাতেই উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি সোহানকে ফুল দিয়ে বিদায় জানান এবং তার বাবাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন, যাতে তিনি সন্তানকে কাছাকাছি থেকে দেখাশোনা করতে পারেন।

এরপর ভোরেই উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অর্থায়নে সোহানকে নিয়ে সাভারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক জাহিদ হাসান জুয়েল। বিকেএসপিতে পৌঁছে তিনিই ভর্তি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেন।

কীভাবে ভাইরাল হলো ‘চাঁদপুরের মেসি’?

কয়েক মাস আগে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতেই বদলে যায় সোহানের জীবন। বলকে নিয়ন্ত্রণ করার অভাবনীয় দক্ষতা, গতিময় ড্রিবলিং আর শরীরের স্থিতি—বয়সের তুলনায় যেন অসম্ভব প্রতিভা। ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই কোটি মানুষের চোখে ধরা পড়ে ছোট্ট ছেলেটি। তখনই শুরু হয় “চাঁদপুরের মেসি” উপাধি।

দেশজুড়ে আলোচনার পর যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া সোহানকে বিকেএসপি স্কলারশিপ দেওয়ার ঘোষণা দেন। এই ঘোষণাই তাকে ফুটবলের সঠিক প্রশিক্ষণ পাওয়ার সুযোগ করে দেয়।

মানুষের ভালোবাসা, সহযোগিতা ও আশীর্বাদ

সোহানের প্রতিভায় মুগ্ধ হন সাবেক জাতীয় দলের সাফজয়ী গোলরক্ষক আমিনুল হকও। তার সহযোগিতায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিয়মিত খেলাধুলার সরঞ্জাম এবং প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা সহায়তা দিচ্ছেন।

একজন বাবার অশ্রুসিক্ত স্বপ্ন

সোহানের বাবা সোহেল প্রধান পেশায় সাইকেল মিস্ত্রি। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানের ইচ্ছা পূরণে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন। মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন—

“ছোটকাল থাইকা আমার পোলা ফুটবল পাগল। ঈদে জামা কাপড় না, চাইতো ফুটবল। মানুষের দোয়ায় আর সহযোগিতায় আইজকা ওরে বিকেএসপি’তে ভর্তি করাইতে পারলাম। ক্রীড়া উপদেষ্টা স্যার আর তারেক রহমান স্যারের ঋণ জীবনেও শোধ করতে পারব না। সাংবাদিক ভাইয়েরাও অনেক সাহায্য করেছে। আমার সোহানের জন্য সবার দোয়া চাই।”

সংক্ষিপ্ত তথ্যসূত্র

বিষয়তথ্য
নামসোহান (খুদে মেসি)
বয়স৬ বছর
বাড়িচাঁদপুর
ভর্তিবিকেএসপি
সহায়তাউপজেলা প্রশাসন, ক্রীড়া উপদেষ্টা, তারেক রহমান
বাবার পেশাসাইকেল মিস্ত্রি
ভাইরাল কারণবল নিয়ন্ত্রণ, ড্রিবলিং, গতি

সমাপ্তি কথা

চাঁদপুরের এই খুদে ফুটবল প্রতিভার বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়া শুধু একটি শিশুর স্বপ্নপূরণ নয়; এটি আমাদের গ্রামীণ পরিবেশে লুকিয়ে থাকা সম্ভাবনাময় প্রতিভাদের সামনে পথ দেখায়। সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেলে সোহানের মতো আরও অনেক শিশু একদিন দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।