রাজশাহী ও পটুয়াখালীতে পৃথক দুটি পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। রাজশাহীর বাঘায় গভীর রাতে বসতবাড়ির বেড়া কেটে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করেছে সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। অন্যদিকে, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর এক পঞ্চম শ্রেণির স্কুলছাত্রীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্ত শেষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, দুটি ঘটনাই অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং এর নেপথ্যে পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত আক্রোশ বিদ্যমান থাকতে পারে।
গত শনিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে বাঘা উপজেলার করালি নওশারা গ্রামে কালু মণ্ডলের ছেলে সোহেল রানাকে (৩৫) নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহতের স্বজনরা জানান, দুর্বৃত্তরা প্রথমে বাড়ির টিনের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং সোহেলকে নাম ধরে ডাকতে থাকে। তিনি সাড়া না দিলে দুর্বৃত্তরা এলোপাথাড়ি গুলি চালায়, যা সোহেলের পাঁজরে ও বুকের নিচে বিদ্ধ হয়। এই সময় স্বামীকে রক্ষা করতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী স্বাধীনা বেগমও জখম হন। চিকিৎসকদের মতে, সোহেল রানার শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পদ্মার চরের কুখ্যাত ‘কাঁকন বাহিনী’ জড়িত থাকতে পারে, যারা গত বছরেও এলাকায় একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।
দেশের দুই প্রান্তে ঘটে যাওয়া এই দুটি অপরাধের তুলনামূলক তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
বাঘা ও রাঙ্গাবালীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সারসংক্ষেপ
| বিষয়ের বিবরণ | বাঘা উপজেলা (রাজশাহী) | রাঙ্গাবালী উপজেলা (পটুয়াখালী) |
| নিহত ব্যক্তির পরিচয় | সোহেল রানা (৩৫), যুবক। | আয়েশা মণি (১১), পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। |
| হত্যার পদ্ধতি | আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে সরাসরি গুলি। | শ্বাসরোধ করে হত্যার পর বস্তাবন্দি। |
| সম্ভাব্য মোটিভ | চরের আধিপত্য ও পূর্বশত্রুতা। | ব্যক্তিগত আক্রোশ বা পারিবারিক কোন্দল। |
| বর্তমান আইনি পদক্ষেপ | মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রামেক হাসপাতালে। | থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান। |
| তদন্তকারী কর্মকর্তা | সুপ্রভাত মণ্ডল (পরিদর্শক, তদন্ত)। | ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), রাঙ্গাবালী। |
এদিকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে ১১ বছরের শিশু আয়শা মণির মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো উপজেলাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। দিনমজুর বাবুল প্যাদার মেয়ে আয়শা গত শুক্রবার বিকেল থেকে নিখোঁজ ছিল। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খুঁজেও তার সন্ধান পাননি। অবশেষে রোববার সকালে নিজ বাড়ির রান্নাঘরের বারান্দায় রাখা একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, আয়শাকে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার মা জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। এমন অসহায় একটি শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বাঘা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুপ্রভাত মণ্ডল এবং রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উভয়ই জানিয়েছেন যে, অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। বাঘার ঘটনার ক্ষেত্রে পদ্মার চরের অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে রাঙ্গাবালীর ঘটনায় আশপাশের সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দুটি ঘটনাই দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নাজুক অবস্থাকে নির্দেশ করছে বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা। তারা দ্রুততম সময়ে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
