মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এক দিনের মধ্যে দুইবার কম্পন অনুভূত হওয়ায় দেশজুড়ে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পনটি স্থানীয় সময় রাত ৯:৪০ মিনিটে মিয়ানমারের মিনবু এলাকায় রেকর্ড করা হয়, যার মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৯। এই কম্পন ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়। দিনের শুরুতে দেশীয় কয়েকটি এলাকায় আরও একটি তুলনামূলক নরম কম্পনও রেকর্ড করা হয়।
সিসমোলজিস্টরা জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পের জন্য দায়ী ফোল্ট লাইনটি অত্যন্ত সক্রিয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভূকম্পন ও আফটারশক ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। কানাডার সাসকাচেওয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু ও আবহাওয়া গবেষক ডঃ মোস্তফা কামাল পালাশ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS)-এর তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, সর্বশেষ কম্পনটি প্রায় ৬৩ কিলোমিটার গভীরে ঘটেছে।
ইউরোপীয়-ভূমধ্যসাগরীয় সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (EMSC) তথ্যে দেখা গেছে, রাত ৯:৪০ মিনিটে ৫.৯ মাত্রার কম্পনের মাত্র ২০ মিনিট পর মিনবুতে আরও একটি ৫.৩ মাত্রার কম্পন রেকর্ড করা হয়। এর আগে সকালবেলায় সাতক্ষীরার কালারোয়া এলাকায় ৪.১ মাত্রার একটি হালকা কম্পন অনুভূত হয়, যা ঢাকার পাশাপাশি আশপাশের জেলা পর্যন্ত প্রভাবিত করে।
নিম্নে মঙ্গলবারের ভূমিকম্প সম্পর্কিত সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:
| তারিখ ও সময় (BST) | এপিসেন্টার | মাত্রা (রিখটার) | গভীরতা (কিমি) | প্রভাবিত এলাকা |
|---|---|---|---|---|
| 3 ফেব্রু, সকাল | কালারোয়া, সাতক্ষীরা | ৪.১ | ১০ | ঢাকা ও আশেপাশের জেলা |
| 3 ফেব্রু, ২১:৪০ | মিনবু, মিয়ানমার | ৫.৯ | ৬৩ | ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার |
| 3 ফেব্রু, ২১:৫১ | মিনবু, মিয়ানমার | ৫.৩ | ৬৫ | মিয়ানমার ও সীমান্তবর্তী এলাকা |
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ অঞ্চলের ফোল্ট লাইনগুলো খুবই সক্রিয়। ২০২৪ সালে একই ফোল্ট লাইন থেকে ৭.৫ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়েছিল, যা এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকিকে প্রমাণ করে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভূতাত্ত্বিকরা সবাই নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন।
নিরাপত্তা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কম্পনের সময় সুরক্ষিত স্থানে থাকা, উঁচু ভবন এড়িয়ে চলা এবং জরুরি কিট প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসন ও বিশেষজ্ঞরা পুনঃকম্পন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে জানাচ্ছেন যে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জনসচেতনতা এবং প্রস্তুতি এমন উচ্চঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে প্রাণহানি ও ক্ষতি কমানোর জন্য অপরিহার্য।
