খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:১৬ এএম
বাংলাদেশ গত এক দশকে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধিতে নেওয়া নানা উদ্যোগের সুফল পাচ্ছে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে, দেশ নির্ধারিত সময়সীমার আগেই জ্বালানি দক্ষতার লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হবে। এমন তথ্য জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিনান্সিয়াল অ্যানালাইসিস (আইইইএফএ) তাদের নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে।
‘বাংলাদেশ এনার্জি ইফিসিয়েন্সি গোলস উইদিন রিচ’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি বুধবার অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছে। আইইইএফএ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে ডলারে সাশ্রয় হচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশের জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানিতে শতকোটি ডলারের সাশ্রয় হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের প্রাথমিক জ্বালানি ব্যবহার ও মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বৃদ্ধির হার বিশ্লেষণ করে জ্বালানি দক্ষতার অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনের লেখক, দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ বিষয়ক প্রধান জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম জানান, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মধ্যে জ্বালানি দক্ষতা ১৩.৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যেখানে ২০৩০ সালের লক্ষ্য ২০ শতাংশ। শুধু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে ৭০ লাখ টন তেলের সমমানের জ্বালানি বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। এতে প্রায় ৩৩৪ কোটি মার্কিন ডলার আমদানি ব্যয় কমেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বার্ষিক গড় জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির হার প্রায় ১.৫২ শতাংশ, যা অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ের এক বছর আগে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। দেশের মোট জ্বালানির দুই-তৃতীয়াংশ ব্যবহৃত হয় গৃহস্থালি ও শিল্প খাতে, তাই এই খাতগুলোতে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ নিলে আরও বেশি সাশ্রয় হবে। উদাহরণস্বরূপ, গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক খাতে এলইডি বাল্ব ব্যবহার ও দক্ষ এয়ারকন্ডিশনার গ্রহণ জ্বালানি সাশ্রয়ের সুস্পষ্ট উদাহরণ।
শিল্প খাতে মোটর, মোটরচালিত সিস্টেম ও ক্যাপটিভ জেনারেটর এবং গ্যাস থেকে ইলেকট্রিক বয়লারে রূপান্তরকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন। বাণিজ্যিক খাতে, যেখানে এসির চাহিদা বেশি, লেবেলিং ও প্যাসিভ ডিজাইন জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানি দক্ষতা কেবল খরচ বাঁচানো নয়; এটি জাতীয় জ্বালানি ব্যবস্থাকে দ্রুত রূপান্তরিত করতে পারে। তবে এর জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ভোক্তা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রযুক্তি সরবরাহকারীদের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে:
দেশব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধি করা
বড় জ্বালানি ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয় লক্ষ্য নির্ধারণ
স্বল্পমূল্যের অর্থায়ন নিশ্চিত করা
বহুজাতিক উন্নয়ন ব্যাংক-সমর্থিত সহজলভ্য অর্থায়নের সুযোগ তৈরি করা
আইইইএফএ নিয়মিত জ্বালানি বাজার, প্রবণতা ও নীতিসংশ্লিষ্ট বিষয় বিশ্লেষণ করে। তাদের লক্ষ্য হলো বৈচিত্র্যময়, টেকসই ও লাভজনক জ্বালানি অর্থনীতিতে রূপান্তর ত্বরান্বিত করা।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধির হার (২০১৪-২০২৪) | ১৩.৬৪% |
| ২০২৩-২৪ সাশ্রয় | ৭০ লাখ টন তেলের সমমান জ্বালানি |
| ডলারে সাশ্রয় | প্রায় ৩৩৪ কোটি মার্কিন ডলার |
| বার্ষিক গড় দক্ষতা বৃদ্ধি | ১.৫২% |
| মূল লক্ষ্য | ২০৩০ সালের ২০% দক্ষতা অর্জন |
| প্রাধান্য খাত | গৃহস্থালি, বাণিজ্যিক, শিল্প খাত |
মন্তব্য