ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে পুতিনের সতর্কবার্তা দেওয়া হলো

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে তার কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বুধবার রাতে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক সভায় তিনি বলেন, কূটনীতি বা সামরিক শক্তি—যেকোনো উপায়ে মস্কো ইউক্রেনে নিজেদের লক্ষ্য পূরণ করবে

পুতিনের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে তৎপরতা বাড়িয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি। পুতিন বলেন, যদি ইউক্রেন বাস্তবমুখী আলোচনায় আগ্রহ দেখায় না, তাহলে ঐতিহাসিক ভূখণ্ডগুলো যুদ্ধের মাধ্যমে রাশিয়ার হাতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বের সরকারগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে এই যুদ্ধের ক্ষেত্র সৃষ্টি করেছে।

এছাড়াও ইউরোপীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে কড়া ভাষা ব্যবহার করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি অভিযোগ করেন, ‘ছোট ইউরোপীয় শাসকরা সাবেক মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে হাত মেলিয়ে আমাদের পতন থেকে লাভ আশা করেছে।

সম্প্রতি মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, বার্লিনে অনুষ্ঠিত ইউক্রেন ও ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় শান্তিচুক্তি সংক্রান্ত ৯০ শতাংশ সমস্যা সমাধান হয়েছে। তবে দুই প্রধান সমস্যা—ভূখণ্ড ছাড় এবং জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভবিষ্যত—এখনও অব্যাহত রয়েছে।

পুতিন বারবার ইউক্রেনের দনবাস অঞ্চল রাশিয়ার হাতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পূর্ব ইউক্রেনের লুহানস্ক ও দোনেৎস্ক মিলিয়ে গঠিত দনবাসের প্রায় সব অংশ এখন রাশিয়ার দখলে। তবে কিয়েভ সেই অঞ্চল ছাড়তে নারাজ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, জনগণের রায় ছাড়া এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।

বার্লিন আলোচনায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধপরবর্তী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউক্রেনের সেনা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ইউরোপের সেনা মোতায়েন। তবে পুতিন কি এই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়।

অপরদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, রাশিয়ার অর্থহীন আগ্রাসন প্রতিহত করতে সমর্থন অব্যাহত রাখতে। টেলিগ্রামে তিনি বলেছেন, রাশিয়া বারবার যুদ্ধ বাড়ানোর সংকেত দিচ্ছে এবং ইউক্রেন সব মিত্রকে নিয়ে এই পাগলামো থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে।


মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে (টেবিল)

বিষয়বিস্তারিত
রাশিয়ার অবস্থানযেকোনো মূল্যে ইউক্রেনে লক্ষ্য অর্জন
পুতিনের বক্তব্যকূটনীতি বা সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হবে
যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধে উদ্যোগ নিয়েছেন
শান্তিচুক্তি অগ্রগতি৯০% সমস্যা সমাধান; ভূখণ্ড ছাড় ও পারমাণবিক কেন্দ্র অব্যাহত
দনবাস অঞ্চললুহানস্ক ও দোনেৎস্ক; রাশিয়ার দখলে
ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়াজনগণের অনুমোদন ছাড়া কোনো পদক্ষেপ হবে না
যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা প্রস্তাবসেনা বৃদ্ধি, ইউরোপীয় সেনা মোতায়েন, অন্যান্য ব্যবস্থা