বরিশাল সদর উপজেলার উত্তর কড়াপুর গ্রামে এক বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তি হলেন দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী (৬০), তিনি মৃত নজির চৌধুরীর ছেলে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, দেলোয়ার ইউনিয়নের বৌশের হাটের ইজারাদার ছিলেন এবং ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের একটি রাস্তার পাশে ডোবা থেকে দেলোয়ারের লাশ উদ্ধার করা হয়। এয়ারপোর্ট থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, “পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তারা জানিয়েছেন, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. ওসমান জানান, “উত্তর কড়াপুর ইউনিয়নের বসুরহাট-কাশিপুর সড়কের শিবপুর বাদামতলা এলাকায় এক অটোরিকশা চালক সাইকেল ও মাফলার পড়ে থাকতে দেখে আমাকে খবর দেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান মিন্টু বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানিয়ে দেন। এরপর আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ডোবার মধ্যে লাশটি দেখতে পাই।”
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দেলোয়ারের মাথার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে মোবাইল ফোন ও নগদ ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা ধারণা করছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান মিন্টু বলেন, “দেলোয়ারের বাবা নজির চৌধুরীও একই ধরনের জমি বিরোধের কারণে পূর্বে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিপক্ষ এবার দেলোয়ারকে হত্যা করেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা আজাদী জানান, “দেলোয়ার বাজার থেকে ইজারার টাকার সঙ্গে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। বাদামতলার নির্জন এলাকায় দুর্বৃত্তরা তাকে ধরে কুপিয়ে রাস্তার পাশে হোগলপাতার ডোবায় ফেলে যায়।”
নিহতের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ কর্মী সবুজ চৌধুরীর জমি নিয়ে বিরোধ ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এই শত্রুতার জেরেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| তথ্যের শিরোনাম | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী |
| বয়স | ৬০ বছর |
| পিতার নাম | নজির চৌধুরী (মৃত) |
| পেশা | ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী, বৌশের হাটের ইজারাদার |
| হত্যাকাল | বুধবার দিবাগত রাত, পৌনে ১২টা |
| হত্যাস্থল | রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়ন, বরিশাল সদর |
| অস্ত্র | ধারালো অস্ত্র (মাথার ডান পাশে আঘাত) |
| আর্থিক অবস্থা | মোবাইল ফোন ও নগদ ১ লাখ ৫২ হাজার টাকা উদ্ধার |
| হত্যার সম্ভাব্য কারণ | জমি সংক্রান্ত বিরোধ, রাজনৈতিক শত্রুতা |
| পুলিশ পদক্ষেপ | ঘটনার তদন্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলমান, লাশ মর্গে প্রেরণ |
পুলিশ ও স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জমি বিরোধের কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই হত্যাকাণ্ড তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
