বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর এলাকায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে বরিশাল জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি সবুজ আকনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায়, গোপনীয়ভাবে পরিচালিত তদন্তের পর বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
Table of Contents
ঘটনার পটভূমি
ভুক্তভোগী কিশোরী হলেন সবুজ আকনের স্ত্রীর বোনের মেয়ে, যিনি ২০২৪ সালে এসএসসি পাস করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সবুজ আকনের স্ত্রী গর্ভবতী থাকাকালীন সময়ে তাকে সেবা ও রাখার উদ্দেশ্যে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এই সুযোগে সবুজ আকন কিশোরীকে নানাভাবে উত্যক্ত করতে শুরু করেন।
২০২৪ সালের ২১ আগস্ট বরিশাল নগরের স্বরোড এলাকায় ভাড়া বাসায়, যখন সেখানে অন্য কেউ উপস্থিত ছিলেন না, তখন সবুজ আকন কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও তার মাকে হুমকি দেওয়া হয়, যাতে কেউ এই বিষয়ে কিছু প্রকাশ না করে। অভিযোগ দাখিলের প্রায় ছয় মাস পর, ২০২৪ সালের ২৬ মে ভুক্তভোগীর মা তার নামে মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও আইনানুগ প্রক্রিয়া
মামলার প্রাথমিক তদন্ত করেন বরিশাল মহানগর পুলিশের কাউনিয়া উপপরিদর্শক মো. দেলোয়ার হোসেন, পরে গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক গাজী মো. অহিদুল ইসলাম অহিদ মামলাটি তদন্ত করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, সবুজ আকনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩) এর ৯(১) ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রমাণের ভিত্তিতে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
আসামির প্রেক্ষাপট
সবুজ আকন বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি থাকাকালীন সময়ে ধর্ষণ মামলার পর ২০২৪ সালের ২৫ মে দল থেকে বহিষ্কৃত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার এলাকায় বিভিন্ন লুটপাটের অভিযোগও ওঠে।
আদালতের জিআর কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, “মামলাটি বর্তমানে বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।”
মামলার মূল তথ্য সংক্ষেপে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আসামি | সবুজ আকন, বরিশাল জেলা ছাত্রদলের বহিষ্কৃত সহসভাপতি |
| ভুক্তভোগী | কিশোরী (এসএসসি পাস, স্ত্রীর বোনের মেয়ে) |
| ঘটনা তারিখ | ২১ আগস্ট ২০২৪, বরিশাল নগর, স্বরোড এলাকা |
| অভিযোগ | একাধিকবার ধর্ষণ ও হুমকি |
| মামলা দায়ের তারিখ | ২৬ মে ২০২৪ |
| তদন্তকারী কর্মকর্তা | গাজী মো. অহিদুল ইসলাম অহিদ, গোয়েন্দা পুলিশ |
| আইনি ধারা | নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০, সংশোধিত ২০০৩, ধারা ৯(১) |
| আসামির বর্তমান অবস্থা | জামিনে রয়েছে |
প্রশাসন ও আদালতের ব্যবস্থা
বরিশাল মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ এবং আদালত মামলাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। ঘটনার প্রাথমিক প্রমাণ অনুযায়ী, আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী এটি আদালতে দাখিল করা হয়েছে।
স্থানীয় ও রাজনৈতিক মহলে চাপ সৃষ্টি হওয়ায় প্রশাসন এবং তদন্ত সংস্থা বিষয়টি গোপনীয়ভাবে তদারকি করছে, যাতে ন্যায্য ও সুষ্ঠু বিচারের নিশ্চয়তা থাকে।
