রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংকের বরখাস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ন্যায়বিচার ও পুনর্বহালের দাবিতে চট্টগ্রামে এক শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। রোববার সকালে বন্দরনগরীর একটি অভিজাত হোটেলের সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৈষম্য ও অন্যায় বরখাস্তের বিষয়টি রাজনৈতিক নেতৃত্বের নজরে আনা এবং নীতিগত ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা।
সকাল থেকেই শতাধিক সাবেক ব্যাংকার কর্মসূচিতে অংশ নেন। অনেকেই ‘বরখাস্ত ব্যাংকার’ লেখা টি-শার্ট পরিধান করে উপস্থিত হন, যা তাদের অভিন্ন পরিচয় ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যার মধ্যে ছিল ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান, কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধারের দাবি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করার কথা। তারা জোর দিয়ে বলেন, কর্মসূচিটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পরিচালিত হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক মতাদর্শ, ট্রেড ইউনিয়ন কর্মকাণ্ড কিংবা কর্মক্ষেত্রে অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অধিকাংশ বরখাস্তের ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট অভিযোগ, স্বচ্ছ তদন্ত বা যথাযথ বিভাগীয় শুনানি ছাড়াই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো চরম আর্থিক অনিশ্চয়তা ও সামাজিক সংকটে পড়েছে।
একজন বরখাস্ত ব্যাংকার ইলিয়াস হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন চাকরি করার পর হঠাৎ বরখাস্ত হওয়ায় অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন এবং সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তার মতে, ন্যায়সংগত তদন্ত ও সুবিচার না হলে ব্যাংকিং খাতে কর্মীদের মনোবল ও পেশাগত নিরাপত্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
প্রতিবাদকারীরা আরও বলেন, গত এক দশকে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ বেড়েছে, যার ফলে বরখাস্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এটিকে কেবল ব্যক্তিগত সমস্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক ন্যায়বিচার, শ্রম অধিকার এবং আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেন।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি মানা না হলে দেশব্যাপী আরও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তাদের মতে, বরখাস্ত কর্মীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হলে ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা, জবাবদিহি ও পেশাগত আস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
নিচে কর্মসূচিতে উত্থাপিত প্রধান দাবিগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| দাবি | বিবরণ |
|---|---|
| পুনর্বহাল | অন্যায়ভাবে বরখাস্ত ব্যাংকারদের পূর্বের পদে পুনর্নিয়োগ |
| নিরপেক্ষ তদন্ত | বরখাস্তের ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখতে স্বাধীন কমিশন গঠন |
| আর্থিক ক্ষতিপূরণ | বকেয়া বেতন, ভাতা ও সুবিধা পরিশোধ |
| নীতিগত সংস্কার | ব্যাংকিং খাতে বরখাস্ত সংক্রান্ত স্বচ্ছ ও ন্যায্য নীতিমালা প্রণয়ন |
আয়োজকদের আশা, আসন্ন রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে তাদের দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হবে এবং ব্যাংকিং খাতে ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পথে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
