ভারতের পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ স্পেশাল টাস্কফোর্স (এসটিএফ) শনিবার (৭ মার্চ) রাতে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদী হত্যার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে। রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় বার্তা সংস্থা এএনআই তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে।
এসটিএফ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত দুই ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক এবং পূর্বে চাঁদাবাজি, হত্যা ও অন্যান্য গুরুতর অপরাধে জড়িত ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, তারা বনগাঁ সীমান্ত এলাকায় আশ্রয় নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এই তথ্য ‘গোপন ও বিশ্বাসযোগ্য’ হিসেবে পুলিশ বিবেচনা করেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন ওসমান হাদীকে হত্যার পর ভারতে পালিয়ে যান। তারা অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় মাটিতে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে অবশেষে বনগাঁতে অবস্থান নেয়।
এসটিএফের বিশেষ অভিযান শনিবার গভীর রাতে পরিচালিত হয় এবং দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর রোববার তারা আদালতে হাজির করা হলে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিচের টেবিলে গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| নাম | পদবি/সম্পর্ক | নাগরিকত্ব | গ্রেপ্তার স্থান | গ্রেপ্তারের তারিখ | অপরাধের অভিযোগ |
|---|---|---|---|---|---|
| ফয়সাল করিম মাসুদ | প্রধান আসামি, হাদী হত্যা | বাংলাদেশি | বনগাঁ, উত্তর ২৪ পরগনা | ৭ মার্চ ২০২৬ | হত্যা, চাঁদাবাজি, গুরুতর অপরাধ |
| আলমগীর হোসেন | সহযোগী | বাংলাদেশি | বনগাঁ, উত্তর ২৪ পরগনা | ৭ মার্চ ২০২৬ | সহযোগীতা, অবৈধ প্রবেশ |
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং গুরুতর অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের মাধ্যমে হাদী হত্যার মূল অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে।
ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মীদের নিরাপত্তা ও সীমান্তে আইনশৃঙ্খলার গুরুত্ব নিয়ে নতুনভাবে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এসটিএফ ও স্থানীয় পুলিশ এখন হত্যাকাণ্ডের পেছনের পুরো চক্র চিহ্নিত করার জন্য বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
এই গ্রেপ্তারি ঘটনা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তা এবং দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমের গুরুত্বকেও পুনর্ব্যক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের যৌথ অভিযান সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাস ও মানবপাচারের সম্ভাবনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনের তদন্ত চলছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে তাদের প্রত্যর্পণের সম্ভাবনা রয়েছে।
