বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলায় এক ছয় বছরের শিশুকন্যাকে তার ৮০ বছর বয়সী দাদা ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিকে আদালতে হাজির করার পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, শিশুটির মা ঢাকায় অবস্থানকালে শিশুটির বাবা দুই সন্তানকে নিয়ে দাদার বাড়িতে বেড়াতে যান। শুক্রবার বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে বগুড়া শহরের বাড়িতে ফেরার পর রাত ১০টার দিকে শিশুটির মা বাসায় এসে গৃহকর্মীর মাধ্যমে সন্তানের রক্তভেজা প্যান্ট দেখতে পান। বিষয়টি লক্ষ্য করার সঙ্গে সঙ্গে শিশুটিকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হয়।
প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষায় শিশুর যোনিপথে আঘাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায় ডাক্তাররা জানান যে যোনিপথ ছিঁড়ে গেছে। শিশুটি পরে মাকে বিস্তারিত ঘটনা জানায়। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।
স্থানীয়রা এই ঘটনার কারণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন এবং শিশুদের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সরকারি ও সামাজিক পর্যায়ে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, শিশুর প্রতি নিরাপত্তা, মানসিক ও শারীরিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা ও দ্রুত বিচার ব্যবস্থার গুরুত্ব অপরিসীম।
নিচের টেবিলে ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | দুপচাঁচিয়া উপজেলা, বগুড়া |
| শিশু বয়স | ৬ বছর |
| অভিযুক্ত | শিশুর দাদা, বয়স ৮০ বছর |
| অভিযোগ | ধর্ষণ |
| আইন | নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন |
| প্রাথমিক চিকিৎসা | শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) |
| প্রাথমিক ফলাফল | যোনিপথে আঘাত নিশ্চিত |
| দ্বিতীয় দফা ফলাফল | যোনিপথ ছিঁড়ে গেছে |
| গ্রেফতার পরিস্থিতি | আদালতে হাজির, পরে কারাগারে প্রেরণ |
| স্থানীয় প্রতিক্রিয়া | উদ্বেগ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের আহ্বান |
এই ঘটনায় আবারও দেশের শিশু নিরাপত্তা এবং পারিবারিক পরিচর্যা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে। সামাজিক সচেতনতা, দ্রুত বিচার ব্যবস্থা ও শিশু সুরক্ষা নীতি শক্তিশালী করা অত্যন্ত জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
