ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় কৃষিজমি থেকে মাটি কাটা নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আবু আহাম্মদ (৩৭) নামে একজন যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই ব্যক্তি। ঘটনা ঘটে শনিবার (১৪ মার্চ) রাত প্রায় তিনটার দিকে উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের পূর্ব শিলুয়া এলাকার কন্ট্রাক্টর মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়। নিহত আবু আহাম্মদ পূর্ব শিমুলিয়া এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি এলাকার পরিচিত যুবদল কর্মী ছিলেন।
আহতরা হলেন:
| নাম | বয়স | ঠিকানা | অবস্থা |
|---|---|---|---|
| আলা উদ্দিন সুজন | ৩০ | পূর্ব পাঠানগড়, পাঠাননগর | গুরুতর আহত, ঢাকায় চিকিৎসার জন্য প্রেরিত |
| নূরুল আলম কালা | ৪০ | পূর্ব শিমুলিয়া | হাসপাতালে চিকিৎসাধীন |
| আবু আহাম্মদ | ৩৭ | পূর্ব শিমুলিয়া | নিহত |
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে কৃষিজমি থেকে মাটি কাটার কাজ চলছিল। এ নিয়ে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সংঘর্ষের সময় তিনজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক আবু আহাম্মদকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত সুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়, আর নূরুল আলম কালা এখনও ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, “মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত ও দুই জন আহত হয়েছেন। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল আলম মজনু কৃষিজমি থেকে মাটি কাটাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবুও বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতা–কর্মী প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রাতের আঁধারে মাটি কাটতে থাকেন এবং তা ইটভাটায় সরিয়ে নেওয়া হয়।
এদিকে, ছাগলনাইয়া উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “নিহত ব্যক্তি বিএনপির কোনো অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। রাতের আঁধারে মাটি কাটার ঘটনায় আমাদের বা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের কোনো কর্মী জড়িত নয়। প্রশাসনের কার্যক্রম না থাকায় বিভিন্ন চক্র এ কাজে লিপ্ত হয়েছে।”
ঘটনার পর ছাত্রদল নেতাসহ সাতজনকে পুলিশ আটক করেছে। তদন্ত চলছে এবং সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্তে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
