ময়মনসিংহের ফুলপুরে ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে তিনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা প্রায় ১১টার দিকে ফুলপুর পৌরশহরের বালিয়া মোড় এলাকার ইমাদপুরে কাকলি রাইস মিলের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাস ও সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ থেকে ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
নিহতরা হলেন—বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য সার্জেন্ট রেজাউল, বাসচালক আব্দুল বাসেত এবং এক অজ্ঞাতপরিচয় পথচারী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় যানবাহনের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই পথচারীর মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাসচালক আব্দুল বাসেতকে ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অপরদিকে, সেনাসদস্য সার্জেন্ট রেজাউলকে তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। আহতদের মধ্যে অন্তত নয়জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শেরপুরগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ময়মনসিংহগামী সেনাবাহিনীর গাড়ির সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার ফলে মহাসড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও সেনাসদস্যদের যৌথ তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং কিংবা চালকের অসাবধানতার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিহত অজ্ঞাত পথচারীর পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
ঢাকা-শেরপুর মহাসড়কটি উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সড়ক। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী যানবাহন এই পথে চলাচল করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটির কিছু অংশে গতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত ট্রাফিক নজরদারির অভাব রয়েছে। ফলে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এলাকাবাসী সড়ক নিরাপত্তা জোরদার, গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত ট্রাফিক তদারকির দাবি জানিয়েছেন।
নিম্নে দুর্ঘটনার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| দুর্ঘটনার স্থান | ইমাদপুর, কাকলি রাইস মিলের সামনে, ফুলপুর, ময়মনসিংহ |
| সড়ক | ঢাকা-শেরপুর মহাসড়ক |
| সময় | ১৮ ফেব্রুয়ারি, সকাল ১১টা |
| সংশ্লিষ্ট যানবাহন | যাত্রীবাহী বাস ও সেনাবাহিনীর গাড়ি |
| নিহত | ৩ জন |
| আহত | অন্তত ১২–১৫ জন |
| হাসপাতালে ভর্তি | ৯ জন (ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) |
আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
