,

ফুটবল কিংবদন্তি পেলের জীবনের ২০ চমকপ্রদ অধ্যায়

ফুটবল ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যেগুলো সময়ের সীমানা পেরিয়ে চিরকাল মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছে। ব্রাজিলের এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো, যিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিত ‘পেলে’ নামে, তাঁদেরই একজন। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে তিনটি বিশ্বকাপ জিতে তিনি গড়ে তুলেছিলেন অনন্য এক ইতিহাস। তাঁর অসাধারণ গোল করার ক্ষমতা, দৃষ্টিনন্দন ড্রিবলিং, নিখুঁত পাস এবং মাঠে সৃষ্টিশীলতা তাঁকে ফুটবলের সর্বকালের সেরাদের কাতারে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

আজ ২৩ অক্টোবর, ফুটবলের এই কিংবদন্তির জন্মদিন। ১৯৪০ সালের এই দিনে ব্রাজিলের মিনাস জেরাইস রাজ্যের ত্রেস কোরাসোয়েস শহরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এক কিশোর থেকে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠার পেছনে রয়েছে সংগ্রাম, প্রতিভা, সাফল্য ও নানা বিস্ময়কর ঘটনা।

পেলের জীবন কেবল বিশ্বকাপ জয়ের গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁর শৈশবের ডাকনাম, অবিশ্বাস্য গোলের রেকর্ড, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রভাব এবং ফুটবলের বাইরের কর্মকাণ্ডও সমান কৌতূহল জাগায়। জন্মদিনে জেনে নেওয়া যাক এই কিংবদন্তির জীবনের ২০টি উল্লেখযোগ্য তথ্য।

পেলের জীবনের ২০টি চমকপ্রদ তথ্য

১. উদ্ভাবক থমাস এডিসনের নাম থেকে তাঁর নামের উৎপত্তি

পেলের পুরো নাম এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো। আমেরিকান উদ্ভাবক থমাস আলভা এডিসনের নামের অনুপ্রেরণায় তাঁর নাম রাখা হয়েছিল ‘এডসন’। শৈশব থেকেই ফুটবলের প্রতি তাঁর গভীর আকর্ষণ ছিল। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও প্রতিভা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি নিজের জায়গা তৈরি করে নেন।

২. ‘পেলে’ নামটি কীভাবে এল, তা নিয়ে রয়েছে মজার গল্প

শৈশবে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে ‘ডিকো’ নামে ডাকতেন। স্কুলজীবনে স্থানীয় একটি দলের গোলরক্ষক ‘বিলে’র নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে তিনি নাকি ‘পিলে’ বলতেন। সহপাঠীদের মধ্যে সেই উচ্চারণ থেকেই ‘পেলে’ নামটি ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রচলিত রয়েছে। পরে এই নামই বিশ্ব ফুটবলে কিংবদন্তির পরিচয়ে পরিণত হয়।

৩. নিজের বিখ্যাত ডাকনামটি পছন্দ করতেন না তিনি

বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের কাছে ‘পেলে’ নামটি পরিচিত হলেও শৈশবে এই ডাকনাম তাঁর খুব একটা পছন্দ ছিল না। নামটি শিশুসুলভ শোনায় বলে তিনি অস্বস্তি বোধ করতেন বলে বিভিন্ন জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে। সময়ের সঙ্গে সেই নামই তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়ে পরিণত হয়।

৪. জুতা ছাড়াই ফুটবল খেলার অভিজ্ঞতা ছিল শৈশবে

পেলের শৈশব কেটেছে সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের মধ্যে। তখন নিয়মিত ফুটবল খেলার জুতা কেনার সুযোগ ছিল না অনেকেরই। বন্ধুদের নিয়ে তিনি একটি দল গঠন করেছিলেন, যার নাম ছিল ‘দ্য শু-লেস ওয়ানস’। নামটি তাদের বাস্তবতার প্রতিফলন—ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সব সময় হাতের নাগালে ছিল না।

৫. বাবার একটি রেকর্ড ছুঁতে পারেননি পেলে

পেলের বাবা ডনদিনহোও ফুটবল খেলতেন। প্রচলিত একটি তথ্য অনুযায়ী, এক ম্যাচে হেডে পাঁচটি গোল করেছিলেন তিনি। পেলে নিজে অসংখ্য গোল করলেও এক ম্যাচে হেডের সাহায্যে চারটির বেশি গোল করতে পারেননি বলে এই গল্পটি ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে বিশেষভাবে পরিচিত। বাবার ফুটবল-অভিজ্ঞতা তাঁর শৈশবের অনুপ্রেরণারও একটি অংশ ছিল।

৬. মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিশ্বকাপজয়ী

১৯৫৮ সালে সুইডেনে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে খেলতে নেমে পেলে বিশ্বকে নিজের প্রতিভার জানান দেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। ফাইনালে স্বাগতিক সুইডেনের বিপক্ষে দুটি গোল করে ব্রাজিলের ৫-২ ব্যবধানের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। ওই বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার হিসেবে তাঁর নাম ইতিহাসে জায়গা করে নেয়।

৭. তিনটি বিশ্বকাপজয়ী একমাত্র পুরুষ ফুটবলার

১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০—এই তিন বিশ্বকাপে ব্রাজিলের শিরোপাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন পেলে। পুরুষদের ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে খেলোয়াড় হিসেবে তিনবার শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব এখনো একমাত্র তাঁরই। ১৯৬২ সালে চোটের কারণে টুর্নামেন্টের বড় অংশ খেলতে না পারলেও শিরোপাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে তাঁর নেতৃত্ব ও নৈপুণ্য ব্রাজিলের তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৮. ক্যারিয়ারে গোলের সংখ্যা নিয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক বিতর্ক

পেলের মোট গোলসংখ্যা নিয়ে ফুটবলবিশ্বে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। তাঁর নিজের হিসাবে এবং সান্তোসের বিভিন্ন ঐতিহাসিক হিসাব অনুযায়ী, প্রদর্শনী ম্যাচসহ সব ধরনের খেলায় তিনি ১ হাজার ২৮৩টি গোল করেছিলেন। তবে আধুনিক পরিসংখ্যানবিদেরা সাধারণত আনুষ্ঠানিক প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের গোল আলাদাভাবে গণনা করেন। ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে তাঁর স্বীকৃত আন্তর্জাতিক গোলের সংখ্যা ৭৭, যা দীর্ঘদিন দেশটির পুরুষ ফুটবলে সর্বোচ্চ ছিল।

৯. এক ম্যাচেই আট গোলের অবিশ্বাস্য কীর্তি

১৯৬৪ সালের ২১ নভেম্বর সান্তোসের হয়ে বোতাফোগোর বিপক্ষে এক ম্যাচে আটটি গোল করেছিলেন পেলে বলে ঐতিহাসিক রেকর্ডে উল্লেখ রয়েছে। ম্যাচটি সান্তোস ১১-০ ব্যবধানে জিতেছিল। একজন ফুটবলারের পক্ষে একটি ম্যাচে এতগুলো গোল করা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। তাঁর গোল করার দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দেওয়ার সামর্থ্য এই কীর্তিকে আরও স্মরণীয় করে রেখেছে।

১০. হ্যাটট্রিকের সংখ্যাও ছিল বিস্ময়কর

পেলের ক্যারিয়ারে হ্যাটট্রিকের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে ভিন্নতা দেখা যায়। বহুল প্রচলিত হিসাবে, তিনি ৯২টি হ্যাটট্রিক করেছিলেন। এক ম্যাচে তিনটি বা তার বেশি গোল করার এই রেকর্ড তাঁর অসাধারণ আক্রমণাত্মক দক্ষতার পরিচয় বহন করে। শুধু গোল করাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে দলের জন্য ব্যবধান গড়ে দেওয়ার ক্ষমতাও তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছিল।

১১. হাজারতম গোলের মুহূর্তে থমকে গিয়েছিল খেলা

১৯৬৯ সালের ১৯ নভেম্বর পেলের ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় ঘটনা ঘটে। সান্তোসের হয়ে ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি নিজের বহুল আলোচিত হাজারতম গোলের মাইলফলক স্পর্শ করেন। গোলটি করার পর সমর্থকেরা আনন্দে মাঠে নেমে পড়েন। উদ্‌যাপনের কারণে খেলা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়। দিনটি ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। সান্তোসে ১৯ নভেম্বর ‘পেলে ডে’ হিসেবেও পরিচিত।

১২. পেনাল্টিতে গোল করা নিয়ে ছিল তাঁর নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি

পেলে নিজে হাজারতম গোলটি পেনাল্টি থেকে করলেও পেনাল্টি কিক নিয়ে তাঁর একটি বহুল প্রচলিত মন্তব্য রয়েছে। তাঁর মতে, পেনাল্টি থেকে গোল করা গোল করার সবচেয়ে সহজ বা কম সাহসিকতার উপায়। মন্তব্যটি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা থাকলেও এর মাধ্যমে ফুটবলে কঠিন পরিস্থিতি থেকে গোল করার প্রতি তাঁর বিশেষ গুরুত্বের বিষয়টি সামনে আসে। তবে পেনাল্টিও যে খেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

১৩. গারিঞ্চার সঙ্গে খেললে ব্রাজিল হারেনি

ব্রাজিলের আরেক কিংবদন্তি ফুটবলার গারিঞ্চার সঙ্গে পেলের জুটি ছিল অসাধারণ। প্রচলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাতীয় দলের হয়ে এই দুজন একই সঙ্গে মাঠে থাকাকালে ব্রাজিল কোনো ম্যাচে পরাজিত হয়নি। গারিঞ্চার ড্রিবলিং ও পেলের গোল করার ক্ষমতা প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বিপাকে ফেলত। তাঁদের যুগল নৈপুণ্য ব্রাজিলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছিল।

১৪. ১৯৭১ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান

১৯৭১ সালের ১৮ জুলাই যুগোস্লাভিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিলের হয়ে মাঠে নামেন পেলে। ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয় এবং এটিই ছিল জাতীয় দলের হয়ে তাঁর শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁর অবদান শুধু গোলসংখ্যায় সীমাবদ্ধ ছিল না; দলের আক্রমণ গড়ে তোলা, সতীর্থদের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অনন্য।

১৫. একই ম্যাচে দুই দলের হয়ে খেলেছিলেন তিনি

১৯৭৭ সালের ১ অক্টোবর পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ খেলেন পেলে। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক কসমস ও ব্রাজিলের সান্তোসের মধ্যকার ওই ম্যাচে তিনি দুই দলের হয়েই মাঠে নামেন। প্রথমার্ধে কসমসের হয়ে এবং দ্বিতীয়ার্ধে সান্তোসের হয়ে খেলে দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানেন তিনি। ম্যাচটি তাঁর দুই ক্লাবের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এক স্মরণীয় উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

১৬. ব্রাজিলের জাতীয় সম্পদ হিসেবে ঘোষণা

১৯৬০-এর দশকে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর পেলের প্রতি আগ্রহ ছিল ব্যাপক। তাঁকে বিদেশি ক্লাবের হয়ে খেলতে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে ১৯৬১ সালে ব্রাজিল সরকার তাঁকে ‘অফিশিয়াল জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল বলে বহুল প্রচলিত রয়েছে। ঘটনাটি পেলের জনপ্রিয়তা ও ব্রাজিলের ফুটবলে তাঁর গুরুত্বের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

১৭. শতাব্দীর অন্যতম সেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে স্বীকৃতি

১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি পেলেকে শতাব্দীর সেরা ক্রীড়াবিদদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই বছর আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাস ও পরিসংখ্যান সংস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও তাঁকে বিশেষ সম্মানে ভূষিত করে। ফুটবলে তাঁর অবদান যে কেবল একটি দেশ বা প্রজন্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, এসব স্বীকৃতি তারই প্রমাণ।

১৮. রাজনীতিতেও রেখেছিলেন ভূমিকা

ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর পেলে জনজীবনেও সক্রিয় হন। ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ব্রাজিলের ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ সময় খেলাধুলার প্রশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সংস্কার নিয়ে তাঁর ভূমিকা আলোচনায় আসে। মাঠের সাফল্যের বাইরেও ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি।

১৯. নাইজেরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় পেলের খেলা ঘিরে প্রচলিত গল্প

পেলেকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত গল্পগুলোর একটি হলো ১৯৬৭ সালে নাইজেরিয়া সফর। প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, সান্তোসের ম্যাচ দেখতে দর্শকদের সুযোগ করে দিতে দেশটির গৃহযুদ্ধে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। অনেক জায়গায় এই বিরতিকে ৪৮ ঘণ্টার বলে উল্লেখ করা হয়। তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও যুদ্ধবিরতির ব্যাপ্তি নিয়ে ঐতিহাসিক সূত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। গল্পটি তবু পেলের বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তার প্রতীক হিসেবে বারবার আলোচনায় আসে।

২০. পেলের সময়েও ফুটবলে অফসাইডের নিয়ম ছিল

অনেকের ধারণা, পেলের সময় ফুটবলে অফসাইডের নিয়ম ছিল না। বাস্তবে নিয়মটি তাঁর জন্মেরও আগে চালু হয়েছিল। ১৯২৫ সালে অফসাইডের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়, যা আক্রমণাত্মক ফুটবলের বিকাশে প্রভাব ফেলে। পেলের দীর্ঘ ক্যারিয়ারজুড়েই অফসাইডের নিয়ম কার্যকর ছিল, যদিও পরবর্তী সময়ে নিয়মটির ব্যাখ্যা ও প্রয়োগে পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে কোনো খেলোয়াড় অফসাইড অবস্থানে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অপরাধী হন না; খেলায় সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করা বা প্রতিপক্ষকে প্রভাবিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। আধুনিক নিয়ম পেলের গোলসংখ্যায় কী প্রভাব ফেলত, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।

ফুটবলের ইতিহাসে পেলে কেন আজও অনন্য

পেলের কীর্তি কেবল তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি এমন এক সময়ে বিশ্ব ফুটবলে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন, যখন খেলার সম্প্রচার ও আন্তর্জাতিক বিপণনের সুযোগ আজকের মতো বিস্তৃত ছিল না। তবু তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের নানা প্রান্তে। সান্তোসের হয়ে সাফল্য, ব্রাজিল জাতীয় দলের জার্সিতে স্মরণীয় পারফরম্যান্স এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক কসমসের হয়ে খেলার মাধ্যমে তিনি ফুটবলকে আরও বড় আন্তর্জাতিক দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেন।

২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৮২ বছর বয়সে মারা যান পেলে। তাঁর মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী, খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠনগুলো শ্রদ্ধা জানায় এই কিংবদন্তিকে। তাঁর জীবন দেখিয়েছে, প্রতিভার সঙ্গে অধ্যবসায় ও সুযোগের সমন্বয় ঘটলে একজন খেলোয়াড় নিজ দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রতীকে পরিণত হতে পারেন।

আজ তাঁর জন্মদিনে সেই ইতিহাস আবারও স্মরণ করার উপলক্ষ তৈরি হয়েছে। গোল, ট্রফি ও রেকর্ডের বাইরে পেলের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার হলো ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া। তাঁর খেলা দেখা প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন বিস্ময়ের নাম; আর পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তিনি ফুটবল ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।