ঢাকা মহানগরীর সড়ক ও ফুটপাত দখল করে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখার প্রবণতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, গলি ও ফুটপাতে বেসরকারি এবং সরকারি নির্মাণ কাজের উপকরণ দীর্ঘ সময় ধরে ফেলে রাখায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং পথচারীদের চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ পরিস্থিতিতে দ্রুত এসব সামগ্রী অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা ও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত ইট, বালু, রড, সিমেন্টসহ নানা উপকরণ পরিকল্পনাহীনভাবে রাস্তা ও ফুটপাতে রেখে দেওয়া হচ্ছে। এতে সড়কের কার্যকর প্রস্থ কমে যাচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে যানজট এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব সামগ্রী রাতের বেলাতেও অপরিবর্তিত অবস্থায় থেকে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এই ধরনের কার্যক্রম ডিএমপি অধ্যাদেশ ১৯৭৬-এর ৬৭, ৬৮, ৭২ ও ১০২ ধারা এবং সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর ৩৭ ও ৮২ ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী জনসাধারণের চলাচলের পথ দখল করা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বা নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, শিগগিরই রাজধানীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ অভিযানে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যৌথভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবেন। অভিযান চলাকালে রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে রাখা নির্মাণ সামগ্রী তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ বা অপসারণ করা হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিচে সংশ্লিষ্ট আইনি ধারা ও প্রয়োগযোগ্য ব্যবস্থার একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| বিষয় | আইন/ধারা | ব্যবস্থা |
|---|---|---|
| রাস্তা দখল | ডিএমপি অধ্যাদেশ ১৯৭৬, ধারা ৬৭, ৬৮ | জরিমানা ও উচ্ছেদ |
| ফুটপাত বাধাগ্রস্ত করা | ধারা ৭২ | মোবাইল কোর্টে শাস্তি |
| জননিরাপত্তা বিঘ্ন | ধারা ১০২ | মামলা ও জব্দ |
| সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন | সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮, ধারা ৩৭, ৮২ | আর্থিক জরিমানা ও আইনগত ব্যবস্থা |
নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার যানজট ও পথচারী ভোগান্তির অন্যতম বড় কারণ হলো অপরিকল্পিত নির্মাণ ব্যবস্থাপনা। অনেক নির্মাণাধীন ভবনের মালিক বা ঠিকাদাররা কোনো ধরনের নিরাপত্তা বেষ্টনী, সাইনবোর্ড বা নির্ধারিত স্টোরেজ জোন ছাড়াই রাস্তার অংশ ব্যবহার করেন। এতে শুধু যানবাহনের গতি কমে যায় না, বরং হঠাৎ দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। তাই নির্মাণ কাজে জড়িত সব পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্বে নির্ধারিত স্থানে সামগ্রী সংরক্ষণ এবং দ্রুত রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
গণবিজ্ঞপ্তিতে কঠোর ভাষায় বলা হয়, “ঢাকা মহানগরীকে একটি শৃঙ্খলিত, নিরাপদ ও চলাচল উপযোগী শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।”
শহর পরিকল্পনাবিদদের মতে, শুধু অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদে একটি কার্যকর নির্মাণ সামগ্রী ব্যবস্থাপনা নীতিমালা জরুরি। বিশেষ করে প্রতিটি নির্মাণ প্রকল্পে বাধ্যতামূলক নিরাপদ স্টোরেজ, সুরক্ষা বেষ্টনী এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাস্তা পরিষ্কার রাখার নিয়ম কার্যকর করা হলে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে।
সব মিলিয়ে ডিএমপির এই উদ্যোগ রাজধানীর সড়ক শৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এর সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক নজরদারির পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা ও আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
