ফিলিপাইনে ভয়াবহ বন্যার কারণে এখন পর্যন্ত দুই জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার মুষলধারে বৃষ্টি হয়ে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হওয়ার ফলে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
এএফপি সূত্রে ম্যানিলার খবর অনুযায়ী, ম্যানিলা ও আশপাশের প্রদেশগুলোতে এক রাতের বৃষ্টির ফলে মারিকিনা নদীর তীর ভেঙে যাওয়ার পর স্কুল এবং সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই নদীর তীরে বসবাসকারী ২৩ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কুইজন এবং ক্যালুকান শহর থেকেও ২৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মারিকিনা উদ্ধার কার্যালয়ের কর্মকর্তা উইলমার ট্যান জানান, নদীর পানি ১৮ মিটার (৫৯ ফুট) পর্যন্ত পৌঁছেছে, এবং এই এলাকার বাসিন্দারা নিচু স্থানে বসবাস করতেন।
এদিকে, জরুরি অপারেশন সেন্টারের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক জন পল নিয়েটস জানিয়েছেন, ক্যালুকানে একটি সেতু পার হওয়ার সময় একজন বয়স্ক নারী ও তার গাড়িচালক খালের পানির স্রোতে ভেসে গেছেন। তাদের গাড়ি উদ্ধার করা হলেও এখনও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, এবং উদ্ধার অভিযান চলছে।
মঙ্গলবার সকালে বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও হাজার হাজার মানুষ তাদের বাড়ি ফিরতে পারছেন না।
জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের মতে, গত শুক্রবার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড় উইফার পর থেকে চলমান মৌসুমি বৃষ্টির কারণে মধ্য ও দক্ষিণ ফিলিপাইনে তিন জন নিহত এবং সাত জন নিখোঁজ রয়েছে।
প্রতি বছর ফিলিপাইনে গড়ে ২০টিরও বেশি ঝড় বা টাইফুন আঘাত হানে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে সাধারণত দেশের দরিদ্রতম অঞ্চলগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশ্ব উষ্ণায়নের কারণে জলবায়ু পরিবর্তন মারাত্মক ঝড়গুলোর শক্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যা আরও ধ্বংসাত্মক হয়ে উঠছে।
